প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

খন্দকার সামসুল আলম দুদু - বাংলাদেশের সর্বপ্রথম পত্রিকা ‘স্বাধীন বাংলা’ প্রকাশ করেন

খন্দকার সামসুল আলম দুদু ১৯৪২ সালের ১৭ই আগষ্ট, কুষ্টিয়া জেলার সদর থানার হরিনারায়নপুর ইউনিয়নের আব্দালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। বাবা – মৃত খন্দকার কে আহমেদ, মাতা – মৃত ছারা খাতুন, ৫ ভাই ৩ বোন। ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ৪র্থ । ভাইদের মধ্যে তৃতীয়।

প্রাথমিক স্কুল আব্দালপুর, পরে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়া মসজিদবাড়ী বাইলেন প্রাথমিক স্কুলে এবং পরে মুসলিম হাই স্কুলে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ে ঢাকা থেকে ম্যট্রিক পাশ করেন। প্রথমে ঢাকার একটি কলেজ এবং পরে কুষ্টিয়া কলেজে। কুষ্টিয়া কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন।

তিনি কুষ্টিয়া কলেজের ছাত্র সংসদের ১৯৬৩ সালে নির্বাচিত ভি পি ছিলেন এবং সেই সাথে ১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা [ পুর্ব পাকিস্থান ] ছাত্র লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম,এ তে ভর্তি হন এবং ইকবাল হলের Residence ছাত্র [ জহুরুল হক হল ] এ ছিলেন। মাষ্টার্স পড়ার পর এল,এল,বি তে ভর্তি হন ও পরে ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে আইন ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তদানিন্তন পাকিস্তান ভ্রমন করেন। পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশে ও প্রধান প্রধান এলাকা যেমন – মারী, করাচী, পেশোয়ার, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর সহ প্রধান প্রধান এলাকা ভ্রমন করেন।

ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি রাজনীতি মহলে পুর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। পরে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ট হয়ে পড়েন। তিনি আওয়ামী লীগের বৃহত্তর [ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ] জেলার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ভারতের বিহারে ও চাকুলিয়া তিনি উচ্চতর ট্রেনিং গ্রহন করেন এবং চাকুলিয়া ৬ নং ইউনিটের ৩ নং ব্যাচের উইং লিডার ছিলেন।

যুদ্ধের সময় নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে বাংলাদেশের সর্বোপ্রথম পত্রিকা ‘স্বাধীন বাংলা’ প্রকাশ করেন যা যুদ্ধের সময় বহুল প্রচারিত ছিলো। এর সাথে অনেকেই জড়িত ছিলেন। জনাব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন, এ্যাডঃ লিয়াকত আলী ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন এছাড়াও আরো অনেকেই জড়িত ছিলেন।

তিনি কৈশোর থেকেই খেলাধুলার সাথে জড়িত। তিনি কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন ক্লাবের সাথে জড়িত ছিলেন। যাযাবর ফুটবল ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ও খেলোয়াড় ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে কে,ডি,এস এর সম্পাদক ছিলেন। তার সময়ে খেলাধুলার প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য ছিলেন দীর্ঘকাল এবং N,S,C,B ক্রীড়া পরিষদের সদস্য ছিলেন। খেলাধুলা, শিল্প, সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিলো।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার খ্যাতি সারা বাংলাদেশে বহুল পরিচিত। তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবি পরিষদের এখন সভাপতি আছেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সীমান্তের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যাম্প স্থাপনে সক্রিয় ভাবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন। ভারতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া ও কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নানা ভাবে এ দেশের সকলকে সংগঠিত করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি দেশ পুনঃগঠনের কাজে দারুনভাবে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে সোভিয়েত ইউনিয়নে এক ডেলিগেশনে প্রেরন করেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেন এবং দেশে ফিরে দেশের ও সমাজের কল্যানে আত্তনিয়োগ করেন।

বঙ্গবন্ধুর মৃতুর পর তিনি দীর্ঘকাল কারাগারে ছিলেন এবং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগের জেলা সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে দলকে সংগঠিত করেন। নানা সমস্যা ও প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিক্ষিত বাকশালের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

বাংলার দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হলে বাকশালই সঠিক পথ ও মত বলে তিনি বিশ্বাস করেন, তিনি আরো বিশ্বাস করেন ব্যাক্তির ও দলের চেয়ে আদর্শ নীতিই মুখ্য। কোন পদ ছাড়াও মানুষ ও সমাজকে সেবা করা যায়। লোভ লালসার উর্দ্ধে যেতে না পারলে সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবাসা যায় না। দেশের মানুষের কল্যানে নিজেদের ত্যাগী হতে হবে।

মন্তব্যসমূহ  

# আলোমগীর কবির কুমকুম 28-12-2015 17:22
আর্টিকেলটা যখন সংগ্রহ করি তখন আমার সামনেই খন্দকার শামসুল আলম দুদু আংকেল ছিলো। তাকে দিয়ে পুরা আর্টিকেলটা চেক করানো হয় উনি নিজে সংসোধন ও সংযোজন করে দেন তখনও আমার মনে নেই যে তার একটা ছবি নিতে হবে। তবে পরে তার ছবি সংগ্রহ করে এটা আপডেট করে দেবো। কুষ্টিয়া শহর.কম এর সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ।
উত্তর | প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


নতুন তথ্য

কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের ঐতিহ্য নতুন রুপে ফিরে আসুক আগামী প্রজন্মের কাছে এক সময়ের এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রকল কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক...
ভাঙল কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্‌ এর তিরোধান দিবসের ৩ দিনের অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় সাঙ্গ হলো বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র ১২৯তম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠান। “বাড়ির কাছে...
লালনের আদর্শে আধুনিক দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সবকিছুর...
লালন সাঁইজীর সঠিক দর্শন ছেড়ে অনেকেই এখন ভুল ব্যাখ্যা দিতে তৎপর ! আজ থেকে ১২৯ বছরের ব্যবধানে সেই সময়ের মরমী সাধক বাবা লালন সাঁইজীর সঠিক দর্শন, দিক নিদের্শনা,...
শাঁইজীর আখড়াবাড়ীতে মানুষ রতনের ভীড় “বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে” এই স্লোগানে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বাউল সম্রাট মরমী সাধক ফকির লালন...

নতুন তথ্য

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ইতিহাস ১৮১৬ এবং ১৮১৯ সালের স্থানীয়ভাবে ফেরী ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণ, সড়ক/ সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বৃটিশ সরকার...
সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিকারী কানাই লাল শর্মা কানাই লাল শর্মা (জন্মঃ ৭ই নভেম্বর ১৯৩০ইং, মৃত্যুঃ ১৯শে আগস্ট ২০১৯ইং) কুষ্টিয়ার হাটস হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামে...
Photo credit: Najmul Islam - Golden Bangla বাংলাদেশের সব চাইতে বেশী সুখী মানুষের বসবাস এবং ১৩তম বড় শহর কুষ্টিয়া শহর। সকল ফসল উৎপাদনে সক্ষম কুষ্টিয়ার মানুষ। নদী-নালা,...
সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন (জন্মঃ- ৪ ডিসেম্বর ১৯৩৫ - মৃত্যুঃ- ২২ মে ২০১৯) ছিলেন একজন বাঙালি নজরুলগীতি শিল্পী এবং নজরুল গবেষক। তিনি নজরুলের ইসলামী গান...
হয়রত সোলাইমান শাহ্‌  চিশতী (রঃ) মাজার শরীফ আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ সোলাইমান শাহ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপ নগরে রয়েছে সোলাইমান শাহের...

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in kushtia

Go to top