প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

খন্দকার লুৎফেল হক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একজন শ্রেষ্ঠ সাধক এবং উচ্চমানের শিল্পী

কুষ্টিয়ার আদি ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারগুলোর মধ্যে খন্দকার লুৎফেল হকের পরিবার অন্যতম। খন্দকার লুৎফেল হক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের একজন শ্রেষ্ঠ সাধক এবং উচ্চমানের শিল্পী। তিনি একজন সমাজ সেবক। গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার ভার তিনি নিজেই বহন করতেন এবং নিজ বাড়িতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি একজন প্রগতিশীল চিন্তাধারার এবং মুক্ত মনের মানুষ ছিলেন। তিনি সাংস্কৃতিমনা মানুষদের খুবই ভালবাসতেন এবং এবং নিজ সন্তানদের সেই ভাবেই গড়ে তুলেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের সবাই সম্পৃক্ত ছিলেন, বিশেষ করে তার পুত্র আমিনুল হক বাদশা বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তৈরী করেছেন।

আমিনুল হক একজন সুদর্শন পুরুষ। ছাত্রজীবনে সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলনে কুষ্টিয়াতে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে তিনি কুষ্টিয়ার নেতৃত্ব দেন। আমিনুল হক বাদশা নিউক্লিয়াসের সদস্য ছিলেন।

১৯৬২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জি,এস ছিলেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগে কেন্দ্রীয় কমটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ইকবাল হলের জি,এস ছিলেন ১৯৬৪ সালে।

আমিনুল হক বাদশা একজন সেরা লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট সহ বহু গুনে গুণান্বিত। খন্দকার লুৎফেল হকের ছেলে রাজু আহম্মেদ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শব্দ সৈনিক ও ভাষা সৈনিক ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র তারই প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ‘জল্লাদের দরবার’ নাটকের একজন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা যে নাটক সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিলো। খন্দকার লুৎফেল হকের পুত্র মান্না হক স্বাধীন বাংলা বেতারের গায়ক। খন্দকার লুৎফেল হকের পুত্র সেলিম উচ্চতর ট্রেনিং নিয়ে সক্রিয় ভাবে মুক্তযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। খন্দকার লুৎফেল হক ২৪শে এপ্রিল, ১৯৬৫ সাল, সোমবার মৃত্যুবরন করেন। তার স্ত্রী সখিনা বেগম ১৫ই আগষ্ট ১৯৯২ মৃত্যুবরন করেন।

বংশ পরিচয়ঃ-
খন্দকার লুৎফেল হকের পুর্ব পুরুষ প্রায় ৫০০ বছর পুর্বে মধ্যপ্রাচ্যের কোটদেব থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য এদেশে আসেন এবং রাজশাহীর বাঘা এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। ওখান থেকে আবার যশোরের বসুন্দিয়ায় হিজরত করেন। পীর, ফকির, ধর্ম প্রচারক খন্দকার মাহামুদ আলী কুষ্টিয়ার বটতৈল গ্রামে ধর্ম প্রচার করতে আসেন। বটতৈলের জোতদার তাকে দেখে আকৃষ্ট হন এবং তার সাথে কন্যার বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই করে রাখেন। খন্দকার মাহবুব আলীর পুত্র খন্দকার মাহাতাব উদ্দিন। খন্দকার মাহাতাব উদ্দিন কৃষ্ণনগর কোর্টের নাজির ছিলেন এবং মেহেরপুর কোর্টে চাকুরীরত অবস্থায় অবসর নেন। খন্দকার মাহাতাব উদ্দিনের তিন পুত্র ডাঃ খন্দকার ফজলুল হক, খন্দকার লুৎফেল হক মোক্তার এবং খন্দকার আব্দুল হক কলকাতা পুলিশে চাকুরীরত ছিলেন। খন্দকার লুৎফেল হক বিখ্যাত সংগীত সাধক নগেন দত্তের ছাত্র ছিলেন এবং উচ্চ মানের শিল্পী ছিলেন।

খন্দকার লুৎফেল হকের বড় কন্যা সন্তান চপলা শৈশবেই মারা যান। পুত্র খন্দকার মাসুদুল হক চিত্রাভিনেতা রাজু আহম্মেদ নামে খ্যাত। খন্দকার আমিনুল হক বাদশা, খন্দকার রাশেদুল হক নবা, খন্দকার এমদাদুল হক মান্না, খন্দকার এনামুল হক টিপু, খন্দকার ওবাইদুল হক সেলিম, খন্দকার সামসুল হক লালিম, খন্দকার কামরুল হক শামীম, খন্দকার নুরুল হক নাসিম, এবং সর্বোশেষ কন্যা নাদিরা বানু কল্পনা।

রাজু আহম্মেদের তিন পুত্র, উজ্জ্বল ম্যানিলাতে, কল্লোল ও উৎপল আমেরিকায় বসবাস করে। রাজু আহম্মেদ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ই ডিসেম্বর আততায়ীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন। আমিনুল হক বাদশা এবং তার দুই পুত্র আরিফ ও আকিল লন্ডনে বসবাস করে। খন্দকার রাশেদুল হক নবা সচিব হিসাবে রিটায়ার্ড করেন। তার পুত্র শুভ আমেরিকায় বসবাস করে। কন্যা স্বর্না অধ্যাপিকা আর এক কন্যা টিনা ডাক্তার। খন্দকার এমদাদুল হক মান্না ও পুত্র প্রিতম ও এক কন্যা মাধবী লন্ডনে বসবাস করে বড় মেয়ে শাওলি স্পেনে বসবাস করে। খন্দকার এমদাদুল হক টিপুর দুই কন্যা শ্রাবন্তী, তন্নী ও পুত্র ফারদিন। শামিমের পুত্র আদর ও কন্যা ফারিহা। নাসিমের কন্যা নিখিতা। কপ্লনার কন্যা দীপ্তা ও নম্রতা। খন্দকার সেলিমের পুত্র সংগীত আমেরিকায় চাকুরী করে। খন্দকার লালিমের পুত্র আরিফ চারুকলার ছাত্র।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


নতুন তথ্য

দেখ না মন ঝকমারি এই দুনিয়াদারি বৃহস্পতিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2019
দেখ না মন ঝকমারি এই দুনিয়াদারি পরিয়ে কোপনি ধব্জা মজা উড়ালো ফকিরি দেখ না মন ঝাকমারি এই দুনিয়াদারি। পরিয়ে কোপনি ধব্জা মজা উড়ালো ফকিরি।।
পাখি কখন জানি উড়ে যায় বৃহস্পতিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2019
পাখি কখন জানি উড়ে যায় একটা বদ হাওয়া লেগে খাঁচায় পাখি কখন জানি উড়ে যায় একটা বদ হাওয়া লেগে খাঁচায়।।
মন বিবাগী বাগ মানে না রে বৃহস্পতিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2019
মন বিবাগী বাগ মানে না রে যাতে অপমৃত্যু হবে তাই সদায় করে মন বিবাগী বাগ মানে না রে। যাতে অপমৃত্যু হবে তাই সদায় করে।। কিসে হবে আমার ভজন সাধন মন...
রাখিলেন সাই কূপজল করে আন্ধেলা পুকুরে বৃহস্পতিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2019
রাখিলেন সাই কূপজল করে আন্ধেলা পুকুরে কবে হবে সজল বর্ষা চেয়ে আছি সেই ভরসা রাখিলেন সাঁই কূপজল করে আন্ধেলা পুকুরে।। কবে হবে সজল বর্ষা চেয়ে আছি সেই ভরসা। আমার...
না জানি ভাব কেমন ধারা বুধবার, 18 সেপ্টেম্বর 2019
না জানি ভাব কেমন ধারা না জানিয়ে পাড়ি ধরে মাঝ-দরিয়ায় ডুবল ভারা না জানি ভাব কেমন ধারা। না জানিয়ে পাড়ি ধরে মাঝ-দরিয়ায় ডুবল ভারা।।
শুভ সাধু সঙ্গ লয়ে সঙ্গ পঙ্গ বুধবার, 18 সেপ্টেম্বর 2019
শুভ সাধু সঙ্গ লয়ে সঙ্গ পঙ্গ বনবিহঙ্গ প্রসন্ন করিলে শুভ সাধু সঙ্গ লয়ে সঙ্গ পঙ্গ বনবিহঙ্গ প্রসন্ন করিলে। জলে ফুটেছে কমল হলো সরোবর...
কি ভাব নিমাই তোর অন্তরে মঙ্গলবার, 17 সেপ্টেম্বর 2019
কি ভাব নিমাই তোর অন্তরে মা বলিয়ে চোখের দেখা কি ভাব নিমাই তোর অন্তরে মা বলিয়ে চোখের দেখা তাতে কি তোর ধর্ম যায় রে।। কল্পতরু হাওরে যদি তবু মা বাপ...
আয় গো যাই নবীর দ্বীনে সোমবার, 16 সেপ্টেম্বর 2019
আয় গো যাই নবীর দ্বীনে দীনের ডঙ্কা বাজে আয় গো যাই নবীর দ্বীনে দীনের ডঙ্কা বাজে শহর মক্কা মদীনে॥
বাগেন্দ্রিয় না সম্ভবে সোমবার, 16 সেপ্টেম্বর 2019
বাগেন্দ্রিয় না সম্ভবে আপনায় আপনি ফানা হলে তারে জানা যাবে কোন নামে ডাকিলে তারে হৃদাকাশে উদয় হবে আপনায় আপনি ফানা হলে তারে জানা যাবে।।
ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে সোমবার, 16 সেপ্টেম্বর 2019
ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে এমন বয়সে নিমাই ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে এমন বয়সে নিমাই ঘর ছেড়ে ফকিরী নিলে॥

নতুন তথ্য

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ইতিহাস ১৮১৬ এবং ১৮১৯ সালের স্থানীয়ভাবে ফেরী ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণ, সড়ক/ সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বৃটিশ সরকার...
সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিকারী কানাই লাল শর্মা কানাই লাল শর্মা (জন্মঃ ৭ই নভেম্বর ১৯৩০ইং, মৃত্যুঃ ১৯শে আগস্ট ২০১৯ইং) কুষ্টিয়ার হাটস হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামে...
Photo credit: Najmul Islam - Golden Bangla বাংলাদেশের সব চাইতে বেশী সুখী মানুষের বসবাস এবং ১৩তম বড় শহর কুষ্টিয়া শহর। সকল ফসল উৎপাদনে সক্ষম কুষ্টিয়ার মানুষ। নদী-নালা,...
সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন (জন্মঃ- ৪ ডিসেম্বর ১৯৩৫ - মৃত্যুঃ- ২২ মে ২০১৯) ছিলেন একজন বাঙালি নজরুলগীতি শিল্পী এবং নজরুল গবেষক। তিনি নজরুলের ইসলামী গান...
হয়রত সোলাইমান শাহ্‌  চিশতী (রঃ) মাজার শরীফ আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ সোলাইমান শাহ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপ নগরে রয়েছে সোলাইমান শাহের...
কুষ্টিয়াবাসীর স্বপ্ন পুরুষ প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক কুষ্টিয়াবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন পর্যটন নগরী সৃষ্টিতে সেই রুপকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক, মুক্তিযোদ্ধা...
মৌলভী শামসুদ্দিন আহমেদ মৌলভী শামসুদ্দিন আহমেদ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও কৃষক-প্রজা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মৌলভী শামসউদ্দিন আহম্মদ ১৮৮৯ সালে...
আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ওয়ালিউল বারী চৌধুরী WaliUl Bari Chowdhury the pioneer of modern journalism বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তাণ্চল থেকে প্রকাশিত...
কুমারখালী মুক্ত দিবস ৯ই ডিসেম্বর ৯ই ডিসেম্বর কুমারখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে (৯ই ডিসেম্বর) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী...
৭ই ডিসেম্বর আমলা সদরপুর মুক্ত দিবস ৭ই ডিসেম্বর। ৭১’র আজকের এই দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঐতিহাসিক আমলা সদরপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস।...
নাট্যশিল্পী কচি খন্দকার কচি খন্দকার (জন্মঃ- ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪) জন্ম থেকে মৃত্যু, এই তো জীবন। খুব অল্প সময় হলেও জীবন...
দেশ স্বাধীনের পর নির্বাচিত প্রথম চেয়ারম্যান ম. আ. রহিম ম. আ. রহিম (জন্মঃ- ৮ জানুয়ারি, ১৯৩১ মৃত্যুঃ- ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭) দেশ স্বাধীনের পর জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে কুষ্টিয়া পৌরসভার...
কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছিলেন সফল প্রশাসক কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বাংলাদেশের পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন। তিনি যখন...
কুষ্টিয়া - সুকুমার বিশ্বাস আমরা জানি, কুষ্টিয়ার যুদ্ধে পাকবাহিনী বাঙ্গালীদের কাছে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত হয় এবং মূলত কুষ্টিয়া...
প্রাচীন যুগের কুষ্টিয়ার ইতিহাস খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে বিখ্যাত ভৌগোলিক টলেমীর মানচিত্রে গঙ্গা-নদীর অববাহিকায় কয়েকটি ক্ষুদ্র...
জগদীশ গুপ্ত জগদীশ গুপ্ত (জন্ম : ১৮৮৬ সালে মৃত্যু : ১৯৫৭ সালে) কুষ্টিয়া শহরে। তাঁর আদি নিবাস ফরিদপুরের...
পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন ১৮৬৭ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার দর্শনা হতে জগতি পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করেন এবং এরপর পর্যায়...
নদীটির নাম হিসনা নদীটির নাম হিসনা। এক সময় ওর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল পদ্মার সাথে। আসলে পদ্মা ওর মা। নদী যখন তার...
ভেড়ামারা মুক্ত দিবস ১২ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ সাঁড়াশি আক্রমনের মুখে পাকিস্তানী হানাদার...
দৌলতপুর মুক্ত দিবস ৮ই ডিসেম্বর ৮ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর থানা পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত হয়।...

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in kushtia

Go to top