প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

বাউল

বাউল (Baul) একটি বিশেষ লোকাচার ও ধর্মমত। এই মতের সৃষ্টি হয়েছে বাংলার মাটিতে। বাউলকূল শিরোমণি লালন সাঁইয়ের গানের মধ্য দিয়ে বাউল মত পরিচতি লাভ করে। বাউল গান যেমন জীবন দর্শনে সম্পৃক্ত তেমনি সুর সমৃদ্ধ। বাউলদের সাদামাটা কৃচ্ছসাধনার জীবন আর একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোই তাদের অভ্যাস। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের মৌখিক এবং দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে বাউল গানকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষনা করে।

বাউল (Baul) শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে মতান্তর রয়েছে। কেউ বলেন 'বাতুল' থেকে 'বাউল' হয়েছে, কারো মতে 'বজ্রী' থেকে কিংবা 'বজ্রকুল' থেকে বাউল শব্দটি এসেছে। কেউ কেউ বলেন 'আউল' শব্দ থেকে 'বাউল হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরো শতকে বাংলাদেশে বাউল মতের উদ্ভব হয়। এ মতের প্রবর্তক হলেন আউল চাঁদ ও মাধববিবি। বীরভদ্র নামে এক বৈষ্ণব মহাজন সেই সময়ে একে জনপ্রিয় করে তোলেন।

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া-পাবনা এলাকা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম-বোলপুর-জয়দেবকেন্দুলি পর্যন্ত বাউলদের বিস্তৃতি। বাউলদের মধ্যে গৃহী ও সন্ন্যাসী দুই প্রকারই রয়েছে। বাউলরা তাদের গুরুর আখড়ায় সাধনা করে। প্রতি বৎসর পৌষ সংক্রান্তির দিন বীরভূমের জয়দেব-কেন্দুলিতে বাউলদের একটি মেলা শুরু হয়, যা "জয়দেব বাউলমেলা" নামে বিখ্যাত।

মনের হল মতি মন্দ

তাইতে রইলাম আমি জন্ম-অন্ধ

মনের হল মতি মন্দ
তাইতে রইলাম আমি জন্ম-অন্ধ।।

এই বেলা তোর ঘরের খবর জেনে নে রে মন

কেবা জাগে কেবা ঘুমায় কে কারে দেখায় স্বপন

এই বেলা তোর ঘরের খবর জেনে নে রে মন।
কেবা জাগে কেবা ঘুমায় কে কারে দেখায় স্বপন।।

ক্ষম ক্ষম অপরাধ

দাসের পানে একবার চাও হে দয়াময়

ক্ষম ক্ষম অপরাধ
দাসের পানে একবার চাও হে দয়াময়।
বড় সঙ্কটে পড়িয়া দয়াল
বারে বার ডাকি তোমায়।।

তোমার ক্ষমতায় আমি
যা ইচ্ছে তাই করো তুমি।
রাখো মারো সে নাম নামি
তোমারই এই জগৎময়।।

পাপী অধম ত্বরাইতে সাঁই
পতিত পাবন নাম শুনতে পাই।
সত্য মিথ্যা জানবো হেথায়
ত্বরাইলে আজ আমায়।।

কসুর পেয়ে মারো যারে
আবার দয়া হয় গো তারে।
লালন বলে এ সংসারে
আমি কি তোর কেহই নই।।

শিল্পীঃ- ফরিদা পারভীন

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে

আমরা ভেবে করব কী

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে
আমরা ভেবে করব কী
ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম
তাকে তোমরা বলো কী।।

কে তাহারে চিনতে পারে

এসে মদীনায় তরিক জানায় এ সংসারে

ভবে কে তাহারে চিনতে পারে
এসে মদীনায় তরিক জানায় এ সংসারে।।

আব-হায়াতের নদী কোনখানে

আগে জেন্দা পীরের খান্দানে যাও দেখিয়ে দিবে সন্ধানে

আব-হায়াতের নদী কোনখানে
আগে জেন্দা পীরের খান্দানে যাও
দেখিয়ে দিবে সন্ধানে।।

রাত পোহালে পাখি বলে দে রে খাই দে রে খাই

আমি গুরু কার্য মাথায় রেখে কি করি আর কোথায় যাই

রাত পোহালে পাখি বলে
দে রে খাই দে রে খাই।
আমি গুরু কার্য মাথায় রেখে
কি করি আর কোথায় যাই।।

নামাজ আদায় কই হইলো আমার

নিজের মনকে করলাম সোজা বিবির মনে গোল রইলো

নিজের মনকে করলাম সোজা
বিবির মনে গোল রইলো
নামাজ আদায় কই হইলো আমার।।

সপ্ততালা ভেদ করিলে হাওয়ার ঘরে যাওয়া যায়

হাওয়ার ঘরে গেলে পরে অধর মানুষ ধরা যায়

সপ্ততালা ভেদ করিলে হাওয়ার ঘরে যাওয়া যায়।
হাওয়ার ঘরে গেলে পরে অধর মানুষ ধরা যায়।।

আজ রোগ বাড়ালি কুপথ্য করে

ঔষধ খেয়ে অপযশটি করলি কবিরাজে রে

আজ রোগ বাড়ালি কুপথ্য করে।
ঔষধ খেয়ে অপযশটি করলি কবিরাজে রে।।

উকিল মুন্সী

উকিল মুন্সী (১১ জুন ১৮৮৫ - ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৮) একজন বাঙালি বাউল সাধক। তার গুরু ছিলেন আরেক বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন। তার অসংখ্য গানের মধ্যের আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি রে, সোনা বন্ধুয়া রে এতো দুঃখ দিলে তুই আমারে উল্লেখযোগ্য।

মদিনায় রাসুল নামে কে এলো রে ভাই

কায়া ধারী হয়ে কেন তার ছায়া নাই

মদিনায় রাসুল নামে কে এলো রে ভাই।
কায়া ধারী হয়ে কেন তার ছায়া নাই।।

যে জন হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতেছে

ঘুচেছে তার মনের আঁধার

যে জন হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতেছে
ঘুচেছে তার মনের আঁধার
সে যে দিন ছাড়া নিরিখ বেঁধেছে।।

যে জন দেখেছে অটল রূপের বিহার

মুখে বলুক কিবা না বলুক সে থাকে ঐ রূপ নিহার

যে জন দেখেছে অটল রূপের বিহার।
মুখে বলুক কিবা না বলুক সে থাকে ঐ রূপ নিহার।।

যেতে সাধ হয়রে কাশী কর্ম ফাঁসি বাঁধলো গলায়

আর কতদিন ঘুরবো এমন নাগরদোলায়

যেতে সাধ হয়রে কাশী
কর্ম ফাঁসি বাঁধলো গলায়।
আর কতদিন ঘুরবো এমন নাগরদোলায়।।

এই মানুষে সেই মানুষ আছে

কত মুনি ঋষি চার যুগ ধরে তারে বেড়াচ্ছে খুঁজে

এই মানুষে সেই মানুষ আছে।
কত মুনি ঋষি চার যুগ ধরে তারে বেড়াচ্ছে খুঁজে॥

ঐ রূপ তিলে তিলে জপ মন সূতে

ভুলনা বৈদিক ভুলেতে

ঐ রূপ তিলে তিলে জপ মন সূতে
ভুলনা বৈদিক ভুলেতে।।

একি আসমানি চোর ভাবের শহর লুটছে সদায়

ও তাঁর আসা-যাওয়া কেমন রাহা কে দেখেছো বল আমায়

একি আসমানি চোর ভাবের শহর লুটছে সদায়।
ও তাঁর আসা-যাওয়া কেমন রাহা কে দেখেছো বল আমায়।।

মনে রে বুঝাবো কত

যে পথে মরণ ফাঁসি

মনে রে বুঝাবো কত।

যে পথে মরণ ফাঁসী
সেই পথে মন সদায় রত।।

কি আজব কলে রসিক বানিয়েছে কোঠা

শূন্যভরে পোস্তা করে তার উপর ছাদ আঁটা

কি আজব কলে রসিক বানিয়েছে কোঠা।।

শূন্যভরে পোস্তা করে তার উপর ছাদ আঁটা।।

পাতা 1 এর 22

Close

নতুন তথ্য

নতুন লালন গীতি

  • মনের হল মতি মন্দ
    তাইতে রইলাম আমি জন্ম-অন্ধ মনের হল মতি মন্দ তাইতে রইলাম আমি জন্ম-অন্ধ।।
  • এই বেলা তোর ঘরের খবর জেনে নে রে মন
    কেবা জাগে কেবা ঘুমায় কে কারে দেখায় স্বপন এই বেলা তোর ঘরের খবর জেনে নে রে মন। কেবা জাগে কেবা ঘুমায় কে কারে...
  • ক্ষম ক্ষম অপরাধ
    দাসের পানে একবার চাও হে দয়াময় ক্ষম ক্ষম অপরাধ দাসের পানে একবার চাও হে দয়াময়। বড় সঙ্কটে পড়িয়া দয়াল বারে...
  • চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে
    আমরা ভেবে করব কী চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করব কী ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম তাকে তোমরা বলো কী।।
  • কে তাহারে চিনতে পারে
    এসে মদীনায় তরিক জানায় এ সংসারে ভবে কে তাহারে চিনতে পারে এসে মদীনায় তরিক জানায় এ সংসারে।।

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

We Bangla

Go to top

>