প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

বিস্ময়কর মানব জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল

১৯৪৭ সাল সময়বর্তী ভারতবর্ষের নদীয়া জেলা, তত্পরবর্তী সময়ের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়ার পদ্মার নিকটবর্তী মৃতপ্রায় হিসনা নদীর তীরঘেঁষা স্বনামধন্য গ্রাম সালিমপুর। যেখানে ১৮৮৬ সালের ৭ জানুয়ারি মহাকালের ইতিহাস রচনার জন্য বাবা বিপিনবিহারী পাল আর মাতা মগ্নোময়ী দেবীর কোলে আশ্রিত হয়েছেন কর্মবহুল বৈচিত্র্যময় এক বর্ণাঢ্য মনীষীর। তিনি বাঙালির অহঙ্কার, বিস্ময়কর মানব জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল।

বাবা আর মায়ের ঘরে কোনো উপায়ান্ত ছিল না। যেখান থেকে সংসারে দুমুঠো অন্নের সংস্থান হয়। রাধাবিনোদ যখন তিন বছর বয়সে সবেমাত্র পৃথিবীর ওপর আশ্রয় নির্ভর করতে শুরু করেছেন, তখনই বাবা বিপিনবিহারী সন্ন্যাসব্রত নিয়ে সংসারত্যাগী হন। মা মগ্নোময়ী দেবী তাঁর দুই মেয়ে আর একমাত্র ছেলে রাধাকে নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের পথে যাত্রা করেন। বাবার ভালোবাসাকে স্পর্শ করেনি রাধা। রাধা বড় হতে থাকেন মায়ের দীর্ঘশ্বাসভরা আত্মবিস্মৃত বুকের ব্যথা চাপা ভাবগাম্ভীর্যে, অনাহূত আদর আর ঠাকুর দাদা ফ্যালান চন্দ্র পালের আশীর্বাদ ও স্নেহের উষ্ণ ছায়াতে।

দেশ ও সমাজের আর কয়েকটি সন্তানের মতো আগামীর অনিশ্চিত ভবিতব্য আশাকে বুকে ধরে আট বছর বয়সে তারাগুনিয়ার ঈমান আলী পণ্ডিতের পাঠশালায় পাঠজীবনের হাতেখড়ি নেন রাধা। এখানে পাঠজীবন শুরু করার পেছনেও রয়েছে বর্ণনাময় ও স্মৃতিময় এক আশ্চর্য ঘটনা। সংসারের অভাব আর দারিদ্র্য মোকাবেলা করতে গিয়ে মমতাময়ী মা অন্যের কাজে শ্রম খেটে যখন দিনাতিপাত করছেন, তখন সেই জোয়ারে পাল তুলতে গরু চরানোর কাজে সময় ব্যয় করতেন আমাদের রাধা। বাড়ির পাশে পাঠশালা থাকায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ের সঙ্গে ঘন অরণ্যে গরুগুলো ছেড়ে দিয়ে রাধা স্কুলঘরের খোলা জানালা দিয়ে মনোনিবিষ্ট করে ক্লাসের পাঠ্যক্রম শ্রবণ করতেন। একদিন শহর থেকে স্কুল পরিদর্শক এলেন পাঠশালার লেখাপড়ার হাল-হকিকত দেখতে। ক্লাসে এসে ছাত্রদের কাছে পাঠ্যক্রমের বিষয় সম্পর্কে জানতে একে একে প্রশ্ন করতে লাগলেন ছাত্রদের। কিন্তু ছাত্ররা উত্তর দিতে অপারগ হয়ে নিশ্চুপ ছিল। আমাদের রাধাবিনোদ পাল সে অবস্থা বেশি সময় সহ্য করতে না পেরে স্কুল পরিদর্শককে বলেন, ‘স্যার আমি আপনার সব প্রশ্নের উত্তর জানি।’ বালকের সাহস দেখে চমকে গেলেন পরিদর্শক। বললেন, তোমার নাম কী? তুমি কী করো? রাধা বলেন, স্যার আমরা খুবই গরিব, তাই পড়ার সময় ও সাধ্য নেই। পরিদর্শক সাহেব বালকের অনর্গল প্রশ্নের উত্তর শুনে আরো আশ্চর্য হলেন।

তিনি শিক্ষক ঈমান আলীর কাছে ছেলেটির খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন তাদের দারিদ্র্যের কথা, সংসারের কথা। তিনি স্কুল থেকে বিদায় নেয়ার সময় ঈমান আলী পণ্ডিতকে বলে গেলেন ছেলেটার লেখাপড়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। আর এ রাধার পড়াশোনার ব্যয়ভার তিনি নিজেই বহন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিলেন। ড. পালের লেখাপড়া এবং জীবন গড়ার ভিত্তিটা এখান থেকেই শুরু। ঠাকুরদাদা ফ্যালান চন্দ্রের অবর্তমানে সেখানে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রাধার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা আর শিক্ষার প্রতি অসীম আগ্রহে তাঁর মেসোমহাশয় বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মোড়ভাঙ্গা গ্রামের কেদারনাথ পালের বাড়িতে আশ্রয় ও বলতে গেলে প্রশ্রয়ও জোটে এই পরিবারের। আমাদের গর্বিত রাধাবিনোদ পালের বয়স তখন মাত্র ১১ বছর।

আত্মপ্রত্যয়ী রাধা তাঁর মেসোমহাশয়ের দোকানে মাসিক ৪ টাকা বেতনে ফাই-ফরমাশ খাটে আর তাঁর গর্বিত স্বর্ণগর্ভা মাতা ওই বাড়িতে রান্নাবান্নার দিকটা দেখভাল করতেন। মায়ের পাশে রান্নাঘরের টিমটিমে মাটির পিদিমের আলোয় বসে একান্ত নিজের মতো করেই পরিকল্পনাহীন অনানুষ্ঠানিক পড়াশোনা করতেন বিস্ময়কর মেধাবী রাধা। দোকানের নিয়মিত এক শিক্ষিত সজ্জন খরিদ্দার অপরিচিত নতুন এই রাধাকে দোকান বন্ধের পর রাতে দেখে, মেসো কেদারনাথের কাছে এই বালকের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তাঁর সৌম্য, শান্ত তীক্ষ অথচ দূরদৃষ্টির মাঝ দিয়ে লুক্কায়িত প্রতিভাকে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, সে কথার সূত্র ধরেই বিভিন্ন কথার ফাঁকে রাধাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। মেসো কেদারনাথ তাঁর অসুবিধা সত্ত্বেও রাধাকে বাঁশবাড়ী এম. ই স্কুলে ভর্তি করে দেন। স্কুলের যাবতীয় খরচের বিনিময়ে রাধাকে মেসোমহাশয়ের সব ফরমায়েশ পালন করতে হতো। শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি তাঁর এ আকর্ষণ রাধাকে তাঁর আগত লক্ষ্য থেকে সরে যেতে দেয়নি। দিনমানে সময় না পাওয়ায় রাতের তারাকে সাক্ষী করে ঝিঁঝিঁ পিদিমের আলোয় তিনি রচনা করতে থাকেন তাঁর অভাবনীয় সাফল্যের ভবিষ্যত্ সৃষ্টির বুনিয়াদ। ভোর থেকে দোকানের কাজ সেরে স্কুলে যেতে তাঁর প্রায়ই বিলম্ব হতো। শিক্ষকরা তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এ কারণে, যেকোনো পরীক্ষায় রাধা সবার থেকে উত্তম মেধার পরিচয় দিয়ে খুব চমত্কার রেজাল্ট করতেন। বরাবরই অসামান্য কৃতিত্ব ও প্রজ্ঞাবান রাধা নজরে আসেন কুমারী গ্রামের শিক্ষাবান্ধব জমিদার শৈলেন চন্দ্র পালের। তিনি রাধার সব দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন কুমারী এম. ই স্কুলে। সেখানে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন শহরের কুষ্টিয়া হাইস্কুলে। থাকার ব্যবস্থা হয় কমলাপুর-জিয়ারখির জমিদার রামচন্দ্র রায় চৌধুরীর বাড়িতে। মেধার এমন বিচ্ছুরণের আভা উদ্ভাসিত হওয়ার জন্যই স্রোতে ভাসা কচুরিপানার মতো ভাসতে থাকা রাধাকে রাজশাহীর দুবাহাটির জমিদারের আশ্রয়ে চলে যেতে হয়। দুবাহাটির ‘রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ১৯০৩ সালে এন্ট্রান্স (ম্যাট্রিকুলেশন) পাস করেন। এর পর রাজশাহী কলেজ (বর্তমানে রাজশাহী ওল্ড ডিগ্রি কলেজ) থেকে আবার বৃত্তি নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি প্রথম থেকেই বৃত্তির পুরো টাকা পাঠিয়ে দিতেন অভাবী মায়ের কাছে। আর শহরের দীনবন্ধু পালের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। সেখান থেকে দীনবন্ধু পালের বদলির কারণে রাধা আশ্রয় নেন ‘হেমন্ত কুমারী’ বোর্ডিংয়ে। এই বোর্ডিংয়ের মাসিক খরচ ৬ টাকা দিয়ে সাহায্য করতেন কলেজের ইংলিশ অধ্যাপক রাখাল চন্দ্র ঘোষ। আর কলেজের খরচ কলেজ কর্তৃপক্ষ দিত। কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষার সময় টাকা নেই রাধার কাছে, পরীক্ষার ফিসের অভাবে দুশ্চিন্তায় পড়েন রাধাবিনোদ পাল। সৃষ্টিকর্তা এবার এ দায় লাঘবের ভার বাতলে দিলেন দীনবন্ধু পালের বাড়িতে থাকার সময় পরিচিত বন্ধু তেজেন্দ্র সিংহ রায়কে দিয়ে। তিনি ১৯০৮ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে গণিত (সম্মান) বিষয়ে প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। রাধাবিনোদ পাল ১৯১২-১৯২০ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রথম শ্রেণীতে এলএল,এম পাস করেন। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯২৪ সালে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৩৫ সাল। রাধাবিনোদ পাল বিশেষ পরিচিত গোত্রীয়, আত্মীয় বদ্যিনাথ পালের আমন্ত্রণে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাঁকিলাদহ গ্রামে এসে এই জায়গা দেখে মুগ্ধ হন। এর পর তাঁকে অনুরোধ করাতে তিনি এখানে বসবাসের জন্য বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। রাধাবিনোদ পাল যত্সামান্য জমি কেনার পর আমলা এস্টেটের জমিদার জনৈক সাহা বাবু তাঁকে বেশকিছু জমি প্রদান করেন। সব মিলে তখন তাঁর প্রায় ৫০ একর জমি। আকর্ষণীয় বাড়ি বানিয়ে তিনি তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চারদিকে দেশী-বিদেশী ফলবান বৃক্ষের চারা লাগিয়ে গড়ে তোলেন নয়নশোভিত কানন। তিনি সবার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি করেন একটি বিশাল আকৃতির দীঘি, যা আজো কালের সাক্ষী হয়ে টলটল করে চেয়ে আছে গভীর এক জিজ্ঞাসার দৃষ্টি নিয়ে। তাঁর জীবনটা ছন্দপতনের দোলাচলে তৈরি এক নাটকীয় ঘটনার ঘনঘটা।

১৯৪১ সাল। রাধাবিনোদ পালের জীবন এসে যুক্ত হয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নাড়ির সঙ্গে। জানুয়ারির ২৭ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হয়ে পরবর্তী বছরের ১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে বহাল থাকেন ১৯৪৩ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। বহাল থাকেন ১৯৪৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রেশ তখনো চলছে। কথিত শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষ এগিয়ে গেছে যুদ্ধে। সময়টা তখন যুদ্ধ শেষের দিকে। মারণাস্ত্রের এমন বিভীষিকাময় মৃত্যুর হোলিখেলায় উন্মত্ত আগ্রাসন সভ্যতার মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেয়াকে তিনি কখনই স্বাভাবিকভাবে অন্তরে গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁর অন্তরাত্মার করুণ কাকুতির পবিত্র আর্তনাদ সৃষ্টিকর্তার ঐশী পরশ স্পর্শ করল। ১৯৪৫ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হলো। মিত্র শক্তিধর দেশ হিসেবে দাবিদার আমেরিকা বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয় জাপানিদের যুদ্ধপরাধের জন্য। কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা সভ্যতাকে শ্রদ্ধা না করে শুধু ব্রিটেন এবং নেদারল্যান্ডসকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা গঠন করে‘টোকিও দূরপ্রাচ্য মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল’। ট্রাইব্যুনালে ১১ দেশ হতে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতিদের। গঠন করা হয় একটি বিচারক প্যানেল। বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত দেশ হিসেবে জাপানের মাটিতেই জাপানের সমরবিদ জেনারেল ‘হিদেকি তোজোর’ বিচার করা হয় টোকিও ট্রাইব্যুনালে। যুদ্ধজয়ী মার্কিন বাহিনীর আগ্রহে এই বিচারিক আদালতে সমন্ত বিশ্ব থেকে হেভিওয়েট এ বিচারপতি নির্বাচন করা হয়। এমনকি বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিচারকদের মধ্য থেকে বেছে নেয়া হয় প্রজ্ঞাবান বিচারকদের। ওই প্যানেলে ব্রিটিশ-ভারতের সদস্য বিচারক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন আমাদের ড. রাধাবিনোদ পাল। আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের একজন সদস্য হিসেবে রাধাবিনোদ পাল এ উপমহাদেশ এবং বাঙালি জাতির জন্য বয়ে আনলেন এক দুর্লভ সম্মান। ১৯৪৬ হতে ১৯৪৮ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ড. পাল বিচারের সার্বিক ঘটনার বিষয় নিবিড় ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেন।

Yasukuni Radha Binod Pal Commending Stele
Radha Binod Pal Statue

আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগে বিচারকদের নিয়মিত শপথবাক্যের অতিরিক্ত বাক্য সংযোজন করে শপথের ব্যবস্থা নেয়া হলো যে, ‘‘এই বিচারকার্যের কোনো তথ্যাদি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে না।’’ রাধাবিনোদ পাল বিচারকার্যের ওপর এমন ঘৃণ্য সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেন। বিচারের একপর্যায়ে অন্য চারজন বিচারপতি যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে জাপানের সমরবিদ জেনারেল হিদেকি তোজোকে অভিযুক্ত করে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আদেশ দেন।

এই আদালতের চারজন বিচারক রায় দেন বস্তুত নিয়োগদাতাদের তুষ্ট করে। কিন্তু রাধাবিনোদ পালের রায় সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর দীর্ঘ ১ হাজার ২৩৫ পৃষ্ঠার পুঙ্খানুপুঙ্খ রায়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ণনা করেন যে, এই রায় আমেরিকার পক্ষে সাজানো এবং তা প্রহসনেরও। ‘‘মিত্রপক্ষ যদি শত্রুপক্ষের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মোকাবেলা করার জন্যই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল বলে দাবি করে, তবে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায়, ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ১২ হাজার কিলোটন ওজনের মতো উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তাসম্পন্ন আণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রায় তিন লাখ নিরীহ মানুষ এবং শিশু-নারীকে হত্যা করে আরেকটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজ করেছে মিত্রশক্তি। তিনি এজন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদেরই বিচার দাবি করেন। তিনি ভর ও গতির আবিষ্কারক, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ও আণবিক বোমার আবিষ্কারক ওপেন হাইমারদের মতো বিজ্ঞানীদের সতর্ক করে উল্লেখ করেন তাঁদের উদ্ভাবিত বোমা বিশ্বে শান্তি ও মানবতার বিরুদ্ধে হুমকির কারণ। যেখানে কয়েক ঘণ্টায় লাখ লাখ সাধারণ নিরাপরাধ মানুষের জীবন নাশ হয়েছে এবং এদের মধ্যে বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশু রয়েছে।’’ এই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বিচারের একতরফা গুরুদণ্ড থেকে একটি অমানবিক বিচারকে রক্ষা করেন। জাপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে, ৫০ বছরের মধ্যে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সে নিষেধাজ্ঞার কল্যাণে পরবর্তীতে বিশ্ব অবাক দৃষ্টি মেলে চেয়ে দেখল, নতুন বিশ্বের জন্য জাপানের নিরবচ্ছিন্ন পথ হেঁটে চলার পিচ্ছিল দৃশ্য।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জাপান এবং ভারত তথা বাঙালির সঙ্গে সূত্রিত হয় অভিন্ন নাড়ির সম্পর্ক। এ সম্পর্কের যুক্ততা সৃষ্টি করেন রাধাবিনোদ পাল। অর্থাত্ বাংলাদেশের তথা কুষ্টিয়ার ড. রাধাবিনোদ পাল। সুষ্ঠু বিচারকার্য পরিচালনার জন্য জাপানিদের কাছে এই রাধাবিনোদ পাল বসে আছেন দ্বিতীয় দেবতার আসনে। ১৯৫২ সাল। কয়েকজন জাপানি এবং বাঙালি ড. পালের নেতৃত্বে টোকিওতে শুরু হয়েছিল এক আন্তর্জাতিক শান্তি আন্দোলন। ওই আন্দোলনে ড. পাল তার জ্বালাময়ী অথচ সম্প্রীতি ও সাম্যের বক্তৃতায় আবার কঠোর যুদ্ধবাজ আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিচার দাবি করেন। ওই বছর তিনি জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং খ্যাত প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন। এ সময়ে নিহোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ড. রাধাবিনোদ পালকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। ১৯৬৬ সাল। তিনি জাপান সফরের সময়ে দেশটির সম্রাট হিরোহিতোর কাছ থেকে জাপানের সর্বোচ্চ সম্মানীয় পদক ‘কোক্কা কুনশোও’ অর্থাত্ ‘পার্পল রিবন’ গ্রহণ করেছিলেন। জাপানের রাজধানী টোকিও এর অন্যতম বৃহত্ এভিনিউর নাম রাখা হয়েছে এ কিংবদন্তিতুল্য মহামনীষীর নামে। বিচারকের গাউন পরিহিত স্মৃতিস্তম্ভের বুকজুড়ে এই বিচারকের আবক্ষচিত্র জাপানে গর্বিত এক প্রতীক হিসেবে শোভা পাচ্ছে। জাপানের কিয়োটা শহরে তাঁর নামে রয়েছে জাদুঘর, রাস্তার নামকরণ ও স্ট্যাচু। জাপানিদের কাছে দেবতুল্য রাধাবিনোদ পালের ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র তৈরির অন্বেষায় কাঁকিলাদহে তাঁর বাড়িতে এসে এখনো তাঁর অস্তিত্বর স্পন্দন খুঁজে ফেরেন জাপানিরা। রাধাবিনোদ পাল-পরবর্তী তাঁর প্রজন্ম এখন বসবাস করেন ১৬ নম্বর, ডোভার লেন, কলকাতায়। বাংলার গর্ব, কুষ্টিয়ার এ অহংকারের রূপ-রসের গবেষণায় বেরিয়ে আসে ড. রাধাবিনোদ পালের জন্ম, মৃত্যু, বেড়ে ওঠাসহ আদি বাসস্থান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

১৯৫২-১৯৬২ সাল। ড. রাধাবিনোদ পাল জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক আইন সভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৭ সাল। ড. পাল ভারতের জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে সম্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৬০ সালে তিনি ভারতের শ্রেষ্ঠ জাতীয় সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন। এই সময়ে রাধাবিনোদ পাল টোকিওর ‘ইয়াসুনি জিনজা’ নামক বিতর্কিত ও জাতীয় শিক্ষা এবং ধর্মীয় মন্দির, কিয়োতো শহরে শোওয়ানোমোরি পাহাড়ি উদ্যানে দুটো পাথরের স্মৃতিফলক স্থাপন করেছিলেন। এটা জাপানিদের কাছে এতই সম্মানের যে, এই সম্মান জাপানিরা আর কোনো বিদেশীকে দেয়নি।

খ্যাতিমান মনীষী ড. রাধাবিনোদ পাল ১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি দেহত্যাগ করেন কলকাতার ১৬ নম্বর, ডোভার লেনের নিজ বাড়িতে। যার মাধ্যমে একটা ইতিহাস, সাহস ও গর্বিত অহংকারের যবনিকা টানা হলেও তাঁর রেখে যাওয়া দৃঢ় কর্ম ও মননশীলতা জাপানিদের মনে যেমন অনুপ্রেরণা জোগায়, তিনি আমাদের কাছে তেমনি বোধ ও সম্পদ সৃষ্টির উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছেন অনন্য শ্রদ্ধার অন্তর আত্মায়। তার লিখিত ও পঠিত ১ হাজার ২৩৫ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক রায় বাংলা, জাপানি, ইংরেজিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বর্তমানে ওই রায় কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ডসহ নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন প্রতিষ্ঠানে পাঠ করা হচ্ছে।

১৯৪১ সালের কথা। বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার এক অজ পাড়াগাঁয়ের নাম ছালিমপুর। সেই স্কুলের এক শিক্ষক ঈমান আলী পণ্ডিত। যার বদান্যতা এবং আদর্শের অনুকরণে গড়ে ওঠা ছাত্রের নাম জাস্টিস ড. রাধাবিনোদ পাল। তিনি বিশাল ভারতবর্ষের বিচার বিধাতা, প্রধান বিচারপতি। যার নামডাক এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে দেশময়। যার অক্ষরগুরু, জ্ঞানদাতা এবং পথপ্রদর্শক পণ্ডিত ঈমান আলী। গর্বে শিক্ষকের যেমন বুক ভরে আসে, তেমনি পণ্ডিতজি’র আদর্শমাখা অবয়বটাকে চোখে ও মনে আলিঙ্গনে শ্রদ্ধার পরশ স্পর্শ করে ধন্য মনে হতো বিচার বিধাতা রাধাবিনোদ পালের। প্রধান বিচারপতি নিযুক্তি হওয়ার পর যখন রাধার পরিচ্ছন্ন বিচারে চারদিকে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে, তখন পণ্ডিতজির মায়া মনের কোণে ক্রমে ক্রমে জমতে শুরু করল এক অনুভূতি। প্রাণের রাধাকে এক নজর দেখতে তাঁর বড়ই ইচ্ছা জাগ্রত হতে থাকে। পণ্ডিতজি সুযোগ পেলেই মানুষকে ডেকে বলতেন, জানো আমাদের রাধা আজ অনেক বড় হয়েছে। দেখবে ও (রাধা) আরো বড় হবে। একদিন আমার রাধা বিশ্বকূলে আমাদের (বাঙালির) মুখ উজ্জ্বল করবেই। হঠাত্ একদিন মনের অজান্তে পণ্ডিত ঈমান আলী বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন। খুঁজতে খুঁজতে কলকাতা, তার পরে হাইকোর্টে গিয়ে হাজির। তিনি জানেন এখানে তাঁর রাধা আছে। রাধা কোথায় বসেন? সামনে লোক পেলেই পথ আগলে জিজ্ঞাসা করেন পণ্ডিতজি। লোকটা পাগল নাকি? কেউ কেউ আড়চোখে মন্তব্য করে কোথায় যেন হারিয়ে যায় অনেক মানুষের মাঝে। আবার লোকের কাছে জিজ্ঞাসা করেন পণ্ডিতজি। এক সময়ে সন্ধান মেলে রাধার। ঈমান আলীর রাধা বিশাল বিচারালয়ে উঁচু চেয়ারে বসে আদালত পরিচালনা করে চলেছেন। তাঁর চেয়ারের পেছনে পাঙ্খা দুলিয়ে বাতাস বিলিয়ে চলেছেন পাঙ্খা বাহকরা। কালো কোট পরিহিত অনেক নামিদামি উকিল-মোক্তাররা এজলাসের সম্মুখে ‘মে লড’ বলে রাধাকে বয়ান দিচ্ছেন। নির্বিঘ্ন চিত্তে রাধা সে বয়ান শুনছেন। আদালত কামরার প্রতিটি দরজায় হাফ প্যান্ট পরা রক্ষীরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছেন। ‘আমি রাধার কাছে যাবো— পণ্ডিতজির এ আকুতি রক্ষীদের মনে রেখাপাত ঘটাতে পারেনি। তারা পণ্ডিত কে দরজার বাইরে বের করে দিল। আবারো পণ্ডিতজি রক্ষীদেরকে আকুতি-কাকুতি জানিয়ে বললেন, ‘আমি রাধার কাছে যাবো,’ এবারে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পণ্ডিতকে দরজার আরো বাইরে পাঠিয়ে দেয় রক্ষীরা। নাছোরবান্দা ঈমান আলী চিত্কার করে বলে চললেন, ‘আমি আমার রাধার কাছে যাবো।’ রক্ষীরা তাকে এবার সজোরে ধাক্কা দিয়ে এজলাসের বাইরে পাঠিয়ে দিতে গেলে পণ্ডিতজি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এখন কিন্তু বিচারপতি রাধার কর্ণগোচর হলো, ততক্ষণে ঈমান আলী মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছেন। ‘যেন আমার পণ্ডিতজি ঈমান আলীর মতো মনে হচ্ছে।’ আরে তাই তো! বিচক্ষণ বিচারক রাধাবিনোদ আদালত মুলতবি করে নেমে এলেন এজলাস থেকে। ঈমান আলীর কাছে গিয়ে পণ্ডিতজিকে ধরে দাঁড় করালেন। ততক্ষণে পুরো আদালতের উকিল, মোক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা প্রধান বিচারপতির পিছু নিয়েছেন। সবাই কৌতূহলে তাকিয়ে আছেন। একি হতে যাচ্ছে। কী করতে যাচ্ছেন তাদের প্রধান বিচারপতি। কে এই আগন্তুক? ঈমান আলী পণ্ডিতকে সামনে দাঁড় করিয়ে হাঁটু গেড়ে নিজের মাথা বসুমতির ওপর ঠেকিয়ে দিয়ে ঈমান আলীর পদ তাঁর নিজ ভালে স্পর্শ করে প্রণাম ও প্রণতি জানালেন আমাদের বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল। এর পর সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আমার শিক্ষক ও পণ্ডিতজি ঈমান আলী। যিনি আমাকে এ আসনে বসার ভিত সৃষ্টি করে দিয়েছেন।’ একে একে অনেকে তখন পণ্ডিতজিকে প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাতে লাগলেন। রাধাবিনোদ পাল তাঁর শিক্ষাগুরুকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন আপনালয়ের উদ্দেশে। আবেগাপ্লুত গুরু-শিষ্য কেউই তখন তাদের চোখের জল বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি।

শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের এমন ভক্তি ও শ্রদ্ধার নিদর্শন আজ একেবারেই হারিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বুকভরা গর্ব এবং অহংকার যেন শিক্ষককে মনে করিয়ে দিয়েছিল বিধাতা তাঁর জন্ম সার্থক করে দিল। শিক্ষককে কাছে পেয়ে বিচারপতি ফিরে গেলেন দৌলতপুরের ছালিমপুর গ্রামের সেই ছেলেবেলায়, যেখানে ধেনু চড়াতে চড়াতে স্কুলের জানালার ফাঁক দিয়ে পড়ার প্রতি রাধার মনকে খুবই বিচলিত করে তুলত পণ্ডিত ঈমান আলীর অবিশ্রান্ত পাঠদান কৌশল।

সূত্র: দৌলতপুরের মাটির রূপগন্ধে, মানুষের হূদয়ের প্রচলিত মনের কথা থেকে। ঋণ স্বীকার: কাঞ্চন কুমার হালদার, সভাপতি, আমলা প্রেস ক্লাব, কুষ্টিয়া; কার্ত্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, গবেষক ও প্রাবন্ধিক, খোকসা, কুষ্টিয়া।

লেখক: গবেষক ও পরিবেশ ব্যক্তিত্ব

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


নতুন তথ্য

সৃষ্টিশীল কারিগর কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন রবিউল হুসাইন (জন্মঃ ৩১ জানুয়ারি ১৯৪৩ সাল - মৃত্যুঃ ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ সাল ইংরেজি) সৃষ্টিশীল কারিগর তিনি একাধারে কবি, স্থপতি,...
বাংলা গানের অমর গীতিকবি এবং সংগীতস্বাতী -  মাসুদ করিম মাসুদ করিম ( জন্মঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ - মৃত্যুঃ- ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৬) ছিলেন একজন খ্যাতিমান...
কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের ঐতিহ্য নতুন রুপে ফিরে আসুক আগামী প্রজন্মের কাছে এক সময়ের এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রকল কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক...
ভাঙল কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্‌ এর তিরোধান দিবসের ৩ দিনের অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় সাঙ্গ হলো বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র ১২৯তম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠান। “বাড়ির কাছে...
লালনের আদর্শে আধুনিক দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সবকিছুর...

আমাদের ঐতিহ্য নতুন তথ্য

সৃষ্টিশীল কারিগর কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন রবিউল হুসাইন (জন্মঃ ৩১ জানুয়ারি ১৯৪৩ সাল - মৃত্যুঃ ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ সাল ইংরেজি) সৃষ্টিশীল কারিগর তিনি একাধারে কবি, স্থপতি,...
কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের ঐতিহ্য নতুন রুপে ফিরে আসুক আগামী প্রজন্মের কাছে এক সময়ের এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রকল কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক...
ভাঙল কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্‌ এর তিরোধান দিবসের ৩ দিনের অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় সাঙ্গ হলো বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র ১২৯তম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠান। “বাড়ির কাছে...
লালনের আদর্শে আধুনিক দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সবকিছুর...
লালন সাঁইজীর সঠিক দর্শন ছেড়ে অনেকেই এখন ভুল ব্যাখ্যা দিতে তৎপর ! আজ থেকে ১২৯ বছরের ব্যবধানে সেই সময়ের মরমী সাধক বাবা লালন সাঁইজীর সঠিক দর্শন, দিক নিদের্শনা,...

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in kushtia

Go to top