প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

লালন কথা – ১ম পর্ব

কুষ্টিয়া শহরের অদূরে ছেউড়িয়া একটি ছায়াঘেরা নিবিড় গ্রাম। একপাশে গড়াই অন্যপাশে কালীগঙ্গা দু’টি বহমান নদী। আজ থেকে প্রায় দুইশত সতের বছর আগের একদিন ভোরবেলা ষোল সতের বছরের অচেতন লালন ভাসতে ভাসতে কালীগঙ্গা নদীর তীরে এসে ভিড়ল। ছেউড়িয়া গ্রামের মওলানা মলম কারিকর নামাজি লোক। তাঁর পিতা মুন্সি খায়রুল্লাহ। মুন্সি খায়রুল্লাহর চার পুত্র মলম, আলম, কলম ও তিলম কারিকর।

আলম কারিকর ছাড়া মলমের মতই অপর দুই ভাই কলম ও তিলম নিঃ সন্তান ছিলেন। মলম ছোট বেলাতেই নামায এবং ইসলামী ভাব ধারায় মনযোগী হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি কুষ্টিয়ার একটি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাই ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কুরআনে হাফেজ ও মওলানা পাস করেন।

হাফেজ মলম নিজে সু-শিক্ষিত ছিলেন। বিনয় এবং মার্জিত ব্যাবহারের কারনে সকলে তাঁকে সমান শ্রদ্ধা করতো। তাঁর এই সুনাম ছেউড়িয়া ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে আঁশে পাঁশে গ্রামে। মলম বাইশ বয়সে গড়াই নদীর ওপাড়ে কয়া গ্রামের এক তন্তবায়ী ধার্মিক পরিবারের বারো বছরের সু-দরশনা কন্যা মতিজান কে বিবাহ করেন। স্বামীর প্রতি যত্নশীলতা মতি জানের কণ্ঠ ছিল ভারি মিষ্টি। রুচিশীলা এই রমণী সবকিছু গুছিয়ে রাখতেন। মিষ্টি সুরে কোরআন পাঠ করতেন। ভারী সুন্দর তাঁদের ঘরদোর সংসার। এতো কিছুর পরও তাঁদের দুজনের ভিতর ছিল সন্তান হীন এক শূন্যতা। সন্তানের কামনায় পার হয়ে গেল এক যুগেরও বেশী সময়।

সে দিন ভোর বেলা মওলানা মলম ফজরের নামাজ পড়ে কালীগঙ্গা নদীর দিকে হাওয়া খেতে আসলেন, হটাতই দেখতে পেলেন এক অচেনা সংজ্ঞাহীন যুবক অধঃজলমগ্ন অবস্তায় পড়ে আছে, ছেলেটির মুখে ও শরীরে বসন্ত রোগের দাগ বিদ্যমান। তিনি কাছে গিয়ে দেখলেন ছেলেটি বেঁচে আছে, খুব ধীরলয়ে চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস। নিঃসন্তান হাফেজ মলমের বুকের ভেতর হু হু করে উঠল, এ কোন অচেনা যুবক নয়; খোদা যেন তাঁর সন্তানকে ভাসিয়ে এনেছেন তাঁর কাছে। মলম তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরলেন এবং তাঁর অপর তিন ভাইকে সাথে নিয়ে আসলেন।

এবার চার ভাইয়ে ধরাধরি করে অচেতন যুবককে নিজের বাড়িতে আনলেন। মলম ও মতিজান দিন রাত পরম যত্নে সেবা করতে লাগলেন। দিনে দিনে অচেনা যুবকটির মুখে জিবনের আলো ফিরে এলো। মতিজান জিজ্ঞাসা করলো – বাবা তোমার নাম কি ?

---- ফকির লালন।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


Close

নতুন তথ্য

রাখাল শাহ্‌ এর মাজার বৃহস্পতিবার, 16 জানুয়ারী 2020
রাখাল শাহ্‌ এর মাজার রাখাল শাহ্‌ হচ্ছেন একজন পীর বা আওলিয়া তিনি এই এলাকাই ইসলাম প্রচার করার জন্য এসেছিলেন এবং এখানেই মৃত্যু বরন করেন যার কারনে এই মাজারের...
বজরা শাহী মসজিদ বুধবার, 15 জানুয়ারী 2020
বজরা শাহী মসজিদ বজরা শাহী মসজিদ ১৮শ সতাব্দীতে নির্মিত নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাধীন বজরা ইউনিয়নের অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি মাইজদীর চারপাশের "সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য...
নিঝুম দ্বীপ বুধবার, 15 জানুয়ারী 2020
নিঝুম দ্বীপ নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। ২০০১ সালের...
গান্ধি আশ্রম বুধবার, 15 জানুয়ারী 2020
গান্ধি আশ্রম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধী) বা মহাত্মা গান্ধী (২রা অক্টোবর, ১৮৬৯ - ৩০শে জানুয়ারি,...
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত মঙ্গলবার, 14 জানুয়ারী 2020
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা (Kuakata Sea Beach) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা...

আমাদের ঐতিহ্য নতুন তথ্য

রাখাল শাহ্‌ এর মাজার রাখাল শাহ্‌ হচ্ছেন একজন পীর বা আওলিয়া তিনি এই এলাকাই ইসলাম প্রচার করার জন্য এসেছিলেন এবং এখানেই মৃত্যু বরন করেন যার কারনে এই মাজারের...
বজরা শাহী মসজিদ বজরা শাহী মসজিদ ১৮শ সতাব্দীতে নির্মিত নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাধীন বজরা ইউনিয়নের অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি মাইজদীর চারপাশের "সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য...
নিঝুম দ্বীপ নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত। ২০০১ সালের...
গান্ধি আশ্রম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধী) বা মহাত্মা গান্ধী (২রা অক্টোবর, ১৮৬৯ - ৩০শে জানুয়ারি,...
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা (Kuakata Sea Beach) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা...

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in kushtia

Go to top