প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

৭ই ডিসেম্বর আমলা সদরপুর মুক্ত দিবস

৭ই ডিসেম্বর। ৭১’র আজকের এই দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঐতিহাসিক আমলা সদরপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের অর্জন হিসাবে মুক্ত হয় এই জনপদ। ১৯৭১ সালের এ দিনে বহু ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আমলা সদরপুর পাকহানাদার মুক্ত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মধ্যে যুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন এই এলাকার বীর সন্তানেরা। বিএলএফ প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে বিজয়। এই দিনটির কথা মনে করে আজো গৌরবের সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে চলছে। তারা চান নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে।

বীর মুক্তযোদ্ধা লুৎফর রহমান জানানঃ-

কুষ্টিয়া জেলার পাক বাহিনীর প্রধান এ্যাকশন ক্যাম্প গঠিত হয় আমলায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাক হানাদার বাহিনীরা এখানে এসে থাকতো। বর্তমানে যেটা আমলা সরকারী কলেজ সেখানে ছিলো পাক হানাদার বাহীনিদের ঘাটি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলীর নেতৃত্বে এই অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের বিভিন্ন প্রশিক্ষন নেয়। তিনি আরো জানান, ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর যশোরের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কারনে সেখানে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীরা তাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ, ট্যাংক, রকেট লাঞ্চারসহ ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে সেখান থেকে ঝিনাইদহ দিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আবুরী-মাগুড়া এলাকা দিয়ে আমলা হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আসে।

১৯৭১ সালের ০৬ই ডিসেম্বর মারফত আলীর নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত হয় আমরা চারিদিক থেকে আমলা হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন করবো। আমাদের এ আক্রমনের খবর টের পেয়ে যায় আমলা ক্যাম্পে অবস্থারনত হানাদার বাহিনীরা। আমরা সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ১৭টি ভাগে ভাগ হয়। কমান্ডার আ.স.ম মুসা (চাঁদ), নুরুজ্জামান খাঁন, আফতাব উদ্দিন খাঁন, গেরিলা কমান্ডার আব্দুর রশিদ ফুরকান, আশকর আলী, রাহাত আলী, আফসার আলী, সাদেক আলীসহ আমরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর আমরা একযোগে চারিদিক থেকে আক্রমনের সিদ্ধান্ত নেই। তবে এই খবর পেয়ে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত আমলার সাগরখালী ব্রীজটি ভেঙ্গে দেয় এবং আমলা থেকে পালিয়ে কুষ্টিয়ায় চলে যায়। সেই সাথে আমলায় মুক্তিযোদ্ধাদের চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং মুক্তিকামী সাধারন মানুষ উল্লাস করে। আমলায় উদীত হয় স্বাধীনতার সূর্য। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ ফুরকান বলেন, মহান এই মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে স্বরণীয় ঘটনা হলো আমরা যে হাতদিয়ে পাকিস্থানীদের হত্যা করতাম আবার সেই হাত দিয়েই আমাদের সহযোগীদের সেবা করতাম। দেখেছি হাজারো মানুষকে মরতে। পেরেছি শক্রদের মারতে। দেখেছি মেয়েদের আহাজারি। তারা আমার আপন কেউ ছিলো না, তবে সেদিন মনে হয়েছিলো এরা সকলেই আমাদের আপনজন। এমন নির্মমভাবে মা-বোনদের হত্যা করা হয়েছিলো তা দেখে আমাদের যুদ্ধের অনুপ্রেরনা আরো বেড়ে গিয়েছিলো। আমাদের আত্মবিশ্বাস আর সাধারন মানুষের কষ্টের আহাজারি আমাদের দেশকে স্বাধীন করতে সাহায্য করেছিলো। সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা আমার আজো কানে বাজে। মা-বোনদের আহাজারি, শিশুর কান্না আজো আমার মনে পড়ে।

আমি মনে করি এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সেদিনের শক্র রাজাকার ও তাদের সহযোগিদের বিচার করে তাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হোক। এতে সেদিনের শহীদদের আত্মার শান্তি পাবে। এদেশ একেবারে রাজাকার মুক্ত হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আশকর আলী ও রাহাত আলী আক্ষেপ করে বলেন, আমলা হানাদার মুক্ত হওয়ার ৪৭ বছর পার হয়ে গেলেও এই দিবসটি পালিত হয় না।

এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথার কথা নতুন প্রজন্মকে জানানো কোন মাধ্যম নেই। কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, খোকসা, কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস পালন করি। অনুরুপ আমরা আমলা মুক্ত দিবস পালন করার দাবী জানায়। সেই সাথে আমলায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ফলকের দাবী জানায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাম্মদ আলী বলেন, আমলা সদরপুরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষনের পাশাপাশি আমলার বদ্ধভূমি সংরক্ষনের দাবী জানায়। আমলা সদরপুর আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে আজ ৭ই ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৮ইং দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে বিজয় র‌্যালি, শহীদ মারফত আলীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ- কাঞ্চন কুমার, আন্দোলনের বাজার।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


নতুন তথ্য

সৃষ্টিশীল কারিগর কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন রবিউল হুসাইন (জন্মঃ ৩১ জানুয়ারি ১৯৪৩ সাল - মৃত্যুঃ ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ সাল ইংরেজি) সৃষ্টিশীল কারিগর তিনি একাধারে কবি, স্থপতি,...
বাংলা গানের অমর গীতিকবি এবং সংগীতস্বাতী -  মাসুদ করিম মাসুদ করিম ( জন্মঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ - মৃত্যুঃ- ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৬) ছিলেন একজন খ্যাতিমান...
কুষ্টিয়ার মোহিনী মিলের ঐতিহ্য নতুন রুপে ফিরে আসুক আগামী প্রজন্মের কাছে এক সময়ের এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রকল কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক...
ভাঙল কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্‌ এর তিরোধান দিবসের ৩ দিনের অনুষ্ঠান কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় সাঙ্গ হলো বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র ১২৯তম তিরোধান দিবস অনুষ্ঠান। “বাড়ির কাছে...
লালনের আদর্শে আধুনিক দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সবকিছুর...

নতুন তথ্য

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ইতিহাস ১৮১৬ এবং ১৮১৯ সালের স্থানীয়ভাবে ফেরী ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণ, সড়ক/ সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বৃটিশ সরকার...
সাঁতারে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিকারী কানাই লাল শর্মা কানাই লাল শর্মা (জন্মঃ ৭ই নভেম্বর ১৯৩০ইং, মৃত্যুঃ ১৯শে আগস্ট ২০১৯ইং) কুষ্টিয়ার হাটস হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামে...
Photo credit: Najmul Islam - Golden Bangla বাংলাদেশের সব চাইতে বেশী সুখী মানুষের বসবাস এবং ১৩তম বড় শহর কুষ্টিয়া শহর। সকল ফসল উৎপাদনে সক্ষম কুষ্টিয়ার মানুষ। নদী-নালা,...
সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন (জন্মঃ- ৪ ডিসেম্বর ১৯৩৫ - মৃত্যুঃ- ২২ মে ২০১৯) ছিলেন একজন বাঙালি নজরুলগীতি শিল্পী এবং নজরুল গবেষক। তিনি নজরুলের ইসলামী গান...
হয়রত সোলাইমান শাহ্‌  চিশতী (রঃ) মাজার শরীফ আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ সোলাইমান শাহ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপ নগরে রয়েছে সোলাইমান শাহের...

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in kushtia

Go to top