প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

কেল্লা শাহ্‌ ওরফে হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রাঃ)

(পড়তে সময় লাগবেঃ-: 5 - 9 minutes)

১৩০৩ সালে হযরত শাহজালাল (রাঃ) ইসলাম প্রচারের জন্য ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে এসেছিলেন সিলেটে। এই ৩৬০ জন শিষ্যের মাঝে অন্যতম ছিলেন সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রাঃ)। তিনি হযরত শাহজালাল (রাঃ) খুব কাছের লোক ছিলেন। আখাউড়ার খড়মপুরে অবস্থিত হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রাঃ) এর দরগাহ যা কেল্লা শহীদের দরগাহ বা কেল্লা শাহ্‌ নামে সমগ্র দেশে পরিচিত

বাংলার বিখ্যাত আউলিয়া ও ধর্ম প্রচারক বাবা হযরত শাহ্‌ জালাল ইয়ামেনি আউলিয়ার (রাঃ) অন্যতম মুরিদ ছিলেন গেছুদারাজ। কল্লা কাটার ঘটনার পর হতে কেল্লা শাহ্‌ নামে অধিক পরিচিত। হযরত শাহ জালাল (রাঃ) গেছুদারাজ সহ ৩৬০জন আউলিয়া সাথে নিয়ে বাংলায় ইসলাম প্রচার করতে আসেন। তৎকালীন বাংলার রাজা ছিলো গৌর গোবিন্দ। তিনি ছিলেন তান্ত্রিক শক্তিতে বলিয়ান। রাজা গৌর গোবিন্দের ‘জীয়ন কূপ’ নামে একটা আশ্চর্য এক কূপ ছিল। সেই কূপে মৃত লাশ ফেলে দিলে তা সাথে জীবিত হয়ে যেত। বাবা শাহ্‌ জালাল যখন ৩৬০ জন আওলিয়া সহ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন করেন তখন গৌর গোবিন্দের সাথে তুমল যুদ্ধ বাঁধে, এই যুদ্ধে গৌর গোবিন্দের কোন সৈন্য মারা গেলেই রাজা তাদের জীয়ন কূপে ফেলে আবার জীবিত করে ফেলতেন।

এভাবে গৌড় গোবিন্দের সাথে হাজার চেষ্টা করেও যখন বাবা শাহ্‌ জালাল যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারছিলেন না। তখন তিনি ধ্যানে জানতে পারেন ঐ জিয়ন কূপের শক্তি না নষ্ট করা পর্যন্ত এই যুদ্ধে জয় লাভ সম্ভব নয়। তখন তিনি তার সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়াদের ডেকে জীয়ন কূপ নষ্ট করার কথা বলেও কাউকে রাজি করাতে পারেন নি। কারণ সেই জিয়ন কূপের পাহারায় থাকতো ৪০জন উলঙ্গ নারী, ইসলামে অশ্লীলতার কাছে যাওয়া হারাম। যখন হযরত শাহ্‌ জালাল এ নিয়ে যখন ভীষণ চিন্তামগ্ন তখন তাঁর অনুরাগী ভক্ত গেছুদারাজ বাবা শাহ্‌ জালালের চিন্তিত মুখ সহ্য করতে না পেরে এই কাজে রাজি হয়ে যান। এরপর গেছুদারাজ যখন সেই কূপের সামনে যান তখন ইসলামের মান অক্ষুন্ন রাখতে নিজের ধারালো তরবারি দিয়ে আল্লাহু আকবার বলে এক কোপে নিজের কল্লা কেটে তিতাস নদীতে ফেলে দেন। কল্লা ছাড়া বাবা গেছুদারাজ তরবারি হাতে যখনই জিয়ন কূপের সামনে গেলেন তখন বাবার এই ভয়াবহ রূপ দেখে ৪০জন উলঙ্গ নারী দিকবিদিক হয়ে পালিয়ে যান।

বাবা গেছুদারাজ তখন তাঁর শরীরের পবিত্র এক ফুটা রক্ত ঐ কূপে ফেলে দিলে সাথে সাথে ঐ কূপের সকল ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর কল্লা ছাড়া গেছুদারাজ শাহ্‌র দেহ বাবা শাহ্‌ জালালের নিকট তাঁর পায়ের সামনে গিয়ে প্রাণ ত্যাগ করে। সেদিন শাহ্‌ জালাল বাবা বলেছিলেনঃ-

“যদি কেউ আমার দরগাহ জিয়ারত করতে আসে, তাহলে সে যেন সবার আগে কেল্লা শাহ্‌র মাজার জিয়ারত করে নেয়। তা না হলে তার জিয়ারত অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।”

বাবা শাহ্‌ জালাল কেল্লা শাহ্‌র পাক দেহ নিজ হাতে সিলেটে দাফন করেন। অপর দিকে বাবা কেল্লা শাহ্‌ কাটা মাথা তিতাস নদীতে ভাসতে ভাসতে খড়মপুর নামক স্থানে আসলে তা খড়মপুরের জেলেদের জালে আটকা পড়ে। সে সময় খড়মপুরের জেলেরা তিতাস নদীতে মাছ ধরত । একদিন চৈতন দাস ও তাঁর সঙ্গীরা উক্ত নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তাদের জালে একটি খন্ডিত শির আটকা পড়ে যায়। তখন জেলেরা ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে এবং খন্ডিত শিরটি উঠাতে গেলে আল্লাহর কুদরতে খন্ডিত শির বলতে থাকেঃ-

‘‘একজন আস্তিকের সাথে আর একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যে পর্যন্ত কলেমা পাঠ করে মুসলমান না হবে ততক্ষণ আমার মস্তক স্পর্শ করবে না।’’

খন্ডিত মস্তকের এ কথা শুনে মস্তকের কাছ থেকে কলেমা পাঠ করে চৈতন দাস ও সঙ্গীরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে যায়। মস্তকের নির্দেশ মোতাবেক ইসলামী মতে খড়মপুর কবরস্থানে মস্তক দাফন করে। ধর্মান্তরিত জেলেদের নাম হয় শাহবলা, শাহলো, শাহজাদা, শাহগোরাশাহর ওশন। তাঁরাই এ দরগাহের আদিম বংশধর। এই দরগাহের খ্যতি ধীরে ধীরে চর্তুদিঁকে ছড়িয়ে পড়ে। এ থেকেই শাহ পীর সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লা শহীদের পবিত্র মাজার শরীফ বা কেল্লা শাহ্‌ মাজার নামে পরিচিতি লাভ করে। ২৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরীফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিকগণ অনুমান করেন যে, আওলিয়া হযরত শাহ জালাল (রঃ) এক সঙ্গে সিলেটে যে ৩৬০ জন শিষ্য এসেছিলেন হযরত সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

এই ঘটনার ৭০০ বছর পরও আজও বাবার ওরশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খড়মপুরে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয় কেল্লা বাবার বাৎসরিক ওরশে। বর্ষা মৌসুমে এই ওরশ হয় বলে নদী পথে হাজার হাজার নৌকায় নিশান টানিয়ে গান-বাদ্য বাজিয়ে ভক্তগণ বাবার গুণগান করতে করতে সমবেত হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এই শ্রবণ মাসেও অনুষ্ঠিত হবে বাবার ওরশ।

হযরত কেল্লা শাহ্‌ বাবার ওরশ

ছয় দিনব্যাপী - ২৬শে শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু

স্থানঃ-

হযরত সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহঃ) (কেল্লা শাহ্‌ বাবা) ‘র মাজার শরীফ।
খড়মপুর, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

যাতায়াতঃ-

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খড়মপুরে বাস বা ট্রেন দুই পথেই যাওয়া যায়। সিলেটগামী ট্রেনে করে আজমপুর আর চট্টগ্রামগামী ট্রেনে উঠলে আখাউড়া বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অটোতে করে পৌছে যাওয়া যাবে খড়মপুর কেল্লা শাহ্‌’র মাজারে।

তবে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসে নৌপথে। তিতাস নদীতে এই উপলক্ষ্যে হাজার হাজার নৌকায় করে ভিড় করে খড়মপুরের ঘাটে। তবে এই সব নৌকার বেশিভাগই রিজার্ভ করে আসেন ভক্তরা।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


Close

নতুন তথ্য

প্রযুক্তি তথ্য

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in Bangla

Go to top