প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty

ভিপিএন কি এবং ব্যবহার

(পড়তে সময় লাগবেঃ-: 5 - 10 minutes)

ভিপিএন(VPN) - ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Virtual Private Network )। সহজ ভাষায় বললে, ভিপিএন হলো একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, যেখানে আপনি একটা রিমোট কম্পিউটার এর সাথে আপনার কম্পিউটার কে কানেক্ট করতে পারবেন, আপনার বর্তমান ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে।

ভিপিএন এর পূর্ণরূপ হলো ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। এটি ইন্টারনেটে আপনার ও অন্য একটি নেটওয়ার্কের মাঝে সিকিউর কানেকশন তৈরী করে দেয়। অধিকাংশ মানুষ মূলত অঞ্চলভিত্তিক ব্লক করা সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার্থে এবং সেনসিটিভ কন্টেন্ট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে ট্রেস করা থেকে বাঁচাতেই ভিপিএন ব্যবহার করে।

আজকাল ভিপিএন এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই আজ যে কারণে ভিপিএন ব্যবহার করে সেই কারণে ভিপিএন এর জন্ম হয়নি। ভিপিএন তৈরী করা হয়েছিল ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রাইভেট নেটওয়ার্কগুলোকে নিরাপদে সংযুক্ত করার জন্য।

ভিপিএন আপনার নেটওয়ার্ক ট্রাফিককে অন্য কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফরোয়ার্ড করে দেয়। প্রায় সব অপারেটিং সিস্টেমেই বিল্ট ইন VPN সাপোর্ট আছে।

ভিপিএন এর ব্যবহারঃ-

আপনি যখন আপনার ডিভাইসটিকে ভিপিএনে কানেক্ট করেন তখন এটা অন্য কোন একটা কম্পিউটারে (সার্ভারে) নিজেকে সংযুক্ত করে এবং ইন্টারনেটের সাথে আপনার যোগাযোগের জন্য একটি গোপন রাস্তা বা সুড়ঙ্গ তৈরি করে। আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) এই সুড়ঙ্গের উপস্থিতি বুঝতে পারলেও এর মধ্যে ঢুকতে পারবেনা। ফলে আপনি কোন সাইট ব্রাউজ করছেন কিংবা কী ডেটা পাস করছেন তা আইএসপি জানতে পারবে না। তখন আপনার দেশে বা আইএসপিতে যদি কোন সাইট ব্লক করা থাকে সেই সাইটটিও আপনি ভিপিএন ব্যবহার করে ব্রাউজ করতে পারেন। আর এই সব ডেটা ভিপিএন ব্যবহারের সময় এনক্রিপ্টেড হয়ে যায়।

জিও রেস্ট্রিক্টেড কন্টেন্ট ব্রাউজ

ভিডিও ও অডিও স্ট্রিমিং সাইটগুলোতে নির্দিষ্ট দেশের জন্য স্পেসিফিক কন্টেন্টগুলো যে কোন দেশ থেকেই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) এর মাধ্যমে ব্রাউজ করতে পারবেন। যেমন ধরুন স্পটিফাই সাইট থেকে বাংলাদেশে বসে আপনি গান শুনতে পারবেন না। কিন্তু চাইলেই ইউএস বা অন্য কোন দেশ যেখানে স্পটিফাই এর সার্ভিস আছে সেসব দেশের আইপিযুক্ত সার্ভারে ভিপিএন দিয়ে কানেক্ট করে আপনিও স্পটিফাই সার্ভিস বাংলাদেশে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন।

নিজের তথ্য নিরাপদ রাখতে

আপনি যদি পাবলিক প্লেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ব্রাউজিং ডেটা সেইম নেটওয়ার্কে থাকা অন্যান্য মানুষ ট্রেস করতে পারে যদি সে এই বিষয়ে এক্সপার্ট হয়। এক্ষেত্রে আপনাকে বাঁচাবে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN)। আপনি ভিপিএন দিয়ে কানেক্ট করলে আপনার ওয়াইফাই সংযোগে কেউ আড়ি পাতলে কিংবা এমনকি আপনার আইএসপি নিজেও শুধু একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্কই দেখবে। এর ভিতরে যে সব ডেটা পাস হচ্ছে সেসবের নাগাল পাবে না।

নিজের প্রকৃত লোকেশন গোপন করতে

বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ট্র্যাকিং থেকে বাঁচতে আপনি যদি আপনার প্রকৃত লোকেশন গোপন রেখে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান তাহলে ভিপিএন আপনাকে সেই সুবিধা দিবে। এছাড়া আপনি হয়তো জানেন যে চীনে সরকারীভাবে অনেক সাইটই বন্ধ করে রাখা আছে (এমনকি ফেসবুকও)। চায়নিজরা ভিপিএন ব্যবহার করেই প্রয়োজন পড়লে সেসব সাইট ব্রাউজ করে পুরো ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত থাকে।

টরেন্ট ব্যবহারের সময় আপনার গোপনীয়তা রক্ষার্থে

টরেন্ট থেকে ফাইল নামানোর ক্ষেত্রে ট্রেসিং এড়াতে VPN ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি আপনি যদি লিগ্যাল টরেন্ট ও ডাউনলোড করেন তাহলেও আপনার আইএসপি বেশি ট্রাফিকের ভয়ে আপনার কানেকশন স্লো করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ভিপিএন দিয়েই আপনি ট্রেস থেকে বাঁচতে পারেন।

. . . এবং এর আরও অনেক প্রয়োগ থাকতে পারে।

ভার্চুয়াল জগতে নিরাপত্তার ব্যাপারটি দুর্বোধ্য। কোনো কিছুই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। কিন্তু বাজারের জনপ্রিয় VPN সেবাদাতাগুলোর প্রতি অনেকেই আস্থা রাখছেন। আবার নিজের তৈরি ভিপিএন নেটওয়ার্ক হলে তাও মন্দ হয় না- যদিও অনেক ক্ষেত্রে তা “খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি” বলে মনে হতে পারে। অসাধু বা কম্প্রোমাইজড VPN নেটওয়ার্ক থেকে আপনার ডেটা বেহাত হওয়ার ঝুঁকি যে একদম নেই তা না। অনেক কোম্পানি ফ্রি আনলিমিটেড VPN দেয়ার কথা বলে, যা বুঝেশুনে না এগোলে ফাঁদ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সুতরাং একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে।

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি আপনার আনলাইন জীবন নিয়ে খুব বেশি সতর্ক হলে আপনি নিজেই একটি VPN সার্ভার তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অধিকাংশ মানুষই ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন থার্ড পার্টি সার্ভিস ব্যবহার করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেটিং ওয়ালা সার্ভিসগুলো আপনি নিশ্চিন্তেই ব্যবহার করতে পারেন। অধিকাংশ প্রোভাইডারেরই ফ্রি এবং পেইড, দুই ধরনের VPN প্ল্যান আছে। মাঝে মাঝে VPN ব্যবহার করলে ফ্রি প্ল্যানই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি অফিসের বা ব্যবসায়িক কাজে রেগুলার ব্যবহার করতে হয় তাহলে ভালো একটা পেইড প্ল্যান নিতে পারেন। পেইড প্ল্যানে সাধারণত বিজ্ঞাপন থাকে না এবং সার্ভারের সংখ্যা বেশি ও স্পিড বেশি থাকে। এছাড়া আরো কিছু সুবিধা পেইড প্ল্যানে পাওয়া যায়।

প্রায় সব ভিপিএন প্রোভাইডারেরই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ডেস্কটপ, এন্ড্রয়েড, আইওএস অ্যাপ ও ব্রাউজার এক্সটেনশন রয়েছে। এগুলো সাধারণত ক্রস প্লাটফর্ম সার্ভিস। এগুলো ব্যবহার করাও খুবই সহজ। শুধুমাত্র তাদের সাইট এ গিয়ে সাইনআপ করলেই হয়ে গেলো।

কয়েকটি জনপ্রিয় ভিপিএন প্রোভাইডার হলো স্যামসাং ম্যাক্স (ফ্রি), এক্সপ্রেস ভিপিএন, টানেলবিয়ার, হটস্পটশিল্ড ইত্যাদি। গুগলে কিংবা আপনার ডিভাইসের অ্যাপ স্টোরে VPN লিখে সার্চ করলেই অনেকগুলো সার্ভিসের লিস্ট পেয়ে যাবেন, যেখান থেকে ব্যবহারকারী সংখ্যা, রিভিউ ও রেটিং দেখে এগুলোর নির্ভরযোগ্যতা আঁচ করতে পারবেন। এছাড়া অপেরা ডেস্কটপ ব্রাউজারেও ফ্রি আনলিমিটেড ভিপিএন পাবেন।

অবশেষে আমাদের একটা পরামর্শ আছে ফ্রী দেওয়ার অবশ্যই কিছু কারণ থাকে। তাই আপনি যদি ফ্রী ভিপিএন ব্যবহার করতে চান অবশ্যই দেখে শুনে ব্যবহার করবেন।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


Close

নতুন তথ্য

প্রযুক্তি তথ্য

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

Made in Bangla

Go to top