প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233

ভাষা পরিবর্তনঃ

Cart empty
  • Lalon Song Cloud

কুমারখালী মুক্ত দিবস ৯ই ডিসেম্বর

(পড়তে সময় লাগবেঃ-: 3 - 6 minutes)

৯ই ডিসেম্বর কুমারখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে (৯ই ডিসেম্বর) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে কুমারখালী থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

৭ই ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করে কুন্ডুপাড়া রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমন করেন। সে সময় রাজাকার ফিরোজ-খুরশিদ, গোলাম রসুল, সাদী, গালিবদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ। এ যুদ্ধের খবর পেয়ে কুষ্টিয়া থেকে পাক-সেনারা কুমারখালী শহরে প্রবেশ করে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ব্রাশ ফায়ারের মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করে। কিন্তু সে সময় হাতে গোনা কয়েকজন যুক্তিযোদ্ধা ও অপর্যাপ্ত অস্ত্র থাকায় পাক বাহিনীর মুখোমুখি না হয়ে কৌশলে পিছু হটে। এ সময় পাকবাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালী শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হত্যাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ও শেল নিক্ষেপ চালায়।

৭ই ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিঞা, কুন্ডুপাড়ার ওমর আলী শহীদ হন। এ ছাড়াও শহীদ হন সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলী, কাঞ্চন কুন্ডু, আবু বক্কর সিদ্দিক, আহমেদ আলী বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজাকার ও পাকবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করতে পৃথক পৃথক এলাকায় অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা বারিক খান, রনজু, আঃ রাজ্জাক, হাবীব, মঞ্জুর আর রহমান, রেজাউল করিম হান্নান প্রমূখ। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি, মনজু সাত্তার, সামছুল আলম পিন্টু মাষ্টার, মাহাতাব, কামাল, আতিয়ার রহমান স্বপন (সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা), মকবুল হোসেন, ধীরেন, টগর, জহুর, মিজান বিশ্বাসসহ আরো অনেকেই অংশ নেয়।

৯ই ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা শহরের চারপাশ থেকে পাকবাহিনীর ক্যাম্প (বর্তমান কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমন করে। দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাকবাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পাকবাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে ট্রেনযোগে কুষ্টিয়ার দিকে রওনা দিলেও পাকবাহিনীর বহনকারী ট্রেনটিতে হামলার পরিকল্পনা করে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকবাহিনীর সদস্যদের বহনকারী ট্রেনটি চাড়াইকোল হাতিসাঁকো এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনটি লাইনচ্যুত করে দেয়। ফলে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাকবাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পায়ে হেঁটে কুষ্টিয়া অভিমুখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পকবাহিনীর সদস্যরা আরেকটি ট্রেনযোগে কুমারখালীতে আসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এদিনে রাজাকার কমান্ডার খুশি মারা যায়। আর অন্যান্য রাজাকারেরাও ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং কুমারখালী থানা হানাদার মুক্ত হয়। এইদিন মুক্তিযোদ্ধারা রাইফেল, এসএলআর ফুটিয়ে উল্লাস করতে করতে কুমারখালী থানায় গিয়ে যায়। এ সময় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। আর কুমারখালী হানাদার মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে সর্বস্তরের জনতা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল শুরু করেন।

বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে সর্বস্তরের মানুষের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণে ৯ই ডিসেম্বর কুমারখালী মুক্ত দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

মন্তব্য

মানুষ এবং সমাজের ক্ষতিসাধন হয় এমন মন্তব্য হতে বিরত থাকুন।


Close

নতুন তথ্য

  • 28 মে 2020
    শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
    জয়নুল আবেদিন (জন্মঃ- ২৯ ডিসেম্বর ১৯১৪ - মৃত্যুঃ- ২৮ মে ১৯৭৬ ইংরেজি) বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত...
  • 28 মে 2020
    উকিল মুন্সী
    উকিল মুন্সী (১১ জুন ১৮৮৫ - ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৮) একজন বাঙালি বাউল সাধক। তার গুরু ছিলেন আরেক বাউল সাধক...
  • 27 মে 2020
    আব্দুস সাত্তার মোহন্ত
    আব্দুস সাত্তার মোহন্ত (জন্ম নভেম্বর ৮, ১৯৪২ - মৃত্যু মার্চ ৩১, ২০১৩) একজন বাংলাদেশী মরমী কবি, বাউল...
  • 21 মে 2020
    মাবরুম খেজুর (Mabroom Dates)
    মাবরুমের খেজুরগুলি এক ধরণের নরম শুকনো জাতের (আজওয়া খেজুরের মতই)। যা মূলত পশ্চিম উপদ্বীপে সৌদি...
  • 04 মে 2020
    আনবার খেজুর (Anbara Dates)
    আনবার খেজুরগুলি মদীনা খেজুরগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা। আনবারা হ'ল সৌদি আরবের নরম ও মাংসল শুকনো জাতের...

নতুন তথ্য

Subscribe Our Newsletter

welcome to our newsletter subscription

প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকাশকঃ- সালেকউদ্দিন শেখ সুমন

We Bangla

Go to top