fbpx
প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233
খালি কার্ট

বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পাল

বিচারপতি ডঃ রাধা বিনোদ পাল Judge Radhabinod Pal (জন্ম: ২৭শে জানুয়ারি, ১৮৮৬-মৃত্যু: ১০ই জানুয়ারি, ১৯৬৭) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ী মিত্রশক্তির বিপক্ষে এবং জাপানিদের পক্ষে যুগান্তকারী রায় দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। খ্যতিমান এই বিচারপতির নাম এদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। কুষ্টিয়ার মিরপুর কাকিলাদহের এই কৃতীসন্তানকে নিয়ে সরকারি উদ্যোগে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণের কথা থাকলেও সেটি আজও তেমন ভালোভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

বিচারপতি ড. রাধা বিনোদ পালের জন্ম ১৮৮৬ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের "মধুরাপুর" ইউনিয়নের "মৌজা সালিমপুরের" অধীন "তারাগুনিয়া" গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। এলাকাটি এখন জজপাড়া নামে পরিচিত। পিতা বিপিন বিহারি পাল। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। কুষ্টিয়া হাইস্কুলে তিনি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯০৮ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সিয়াল কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে গণিতে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ১৯১১-১৯২০ সাল পর্যন্ত তিনি অধ্যাপনা করেন। ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম পাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। অতঃপর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯২৪ সালে। আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ১৯১৩ সালে প্রণীত ভারতবর্ষের আয়কর আইনের সময়োপযোগী সংস্করণ করেন। ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সরকারের আয়কর আইন-সংক্রান্ত উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটি ল' কলেজের অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৪১ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক মনোনীত হন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কাজ করেন ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ, অক্ষশক্তিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে নুরেমবার্গ এবং টোকিওতে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। হিটলারের মন্ত্রিপরিষদ এবং যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিচার করা হয় নুরেমবার্গে এবং জাপানের সমরবিদ জেনারেল হিদেকি তোজোর বিচার করা হয় টোকিও ট্রাইব্যুনালে। টোকিও ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রধান বিচারপতি ছিলেন ড. রাধা বিনোদ পাল। বিচারের একপর্যায়ে রাধা বিনোদ পাল বাদে অন্য সব বিচারপতি জেনারেল তোজোকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করে ফাঁসিতে ঝুলানোর সিদ্ধান্ত নেন। অন্যান্য বিচারপতির ধারণা ছিল, বিচারপতি পালও মিত্রশক্তির পক্ষে অনুগত থাকবেন। কিন্তু বিচারপতি রাধা বিনোদ পালের ৮শ' পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক রায় মিত্রশক্তি এমনকি বিশ্বকে হতবাক করে দেয়। আইনের শাসনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল বিচারপতি পাল কর্তৃক পূর্ববর্তী রায়কে বিতর্কিত প্রমাণ করে যুক্তি দেন।

The Tokyo Tribunal - Judge Radhabinod Pal



  • মিত্রশক্তির তিন প্রধান কর্তৃক স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত স্তিমিতকরণে প্রথাগত অস্ত্রের অনুশীলন সম্পর্কিত ঘোষণা।
  • আন্তর্জাতিক আইনের সংযম ও নিরপেক্ষতার নীতিমালা লঙ্ঘন।
  • জাপানের আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত উপেক্ষা করে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টিকারী আণবিক বোমা ব্যবহার।

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ইয়াল্টা সম্মেলনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন রুজভেল্ট, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্ট্যালিন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দ্রুত স্থিমিতকরণে প্রচলিত অস্ত্র প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কোন যুক্তিতে জাপানের বিরুদ্ধে আণবিক বোমা ফেলা হয়? এছাড়াও জাপান যখন যুদ্ধ চলাকালীন সময়ই আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিয়েছে তখন তার ওপর পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জাপানের আত্মসমর্পণের প্রমাণ আদালতের কাছে রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমেরিকা কেন ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ১২ হাজার কিলোটন উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তাসম্পন্ন আণবিক বোমা ফেলে হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে যথাক্রমে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৩৭ জন এবং ৭০ হাজার শিশু ও নারীসহ নিরীহ জনগণকে হত্যা করে। হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমার আক্রমণ ইউরোপে ক্রমাগত স্নায়ুযুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে দেবে। বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল রায় হয়তোবা জেনারেল তোজোসহ ৭ জনের ফাঁসি কার্যকর করতে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। কিন্তু মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, শান্তি ও আইনের শাসনের পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান বেশ প্রশংসিত হয়। ড. বিনোদ পাল ভালোবেসে ফেলেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপানকে। তিনি বিশ্বাস করতেন, জাপান একদিন অর্থনৈতিক ও শিল্পসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ড. রাধা বিনোদ পালকে সম্মান জানাতে কুণ্ঠিত করেনি জাপানের জনগণ। জাপানে তার স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য গঠিত হয়েছে পাল ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক আইনের পণ্ডিত ড. রাধা বিনোদ পাল পরবর্তী সময়ে একাধিকবার আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের বিচারপতি ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ ও জাতীয় অধ্যাপকের সম্মানে ভূষিত করেন। মহান এই আইনবিদ ১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি মারা যান। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এই অগ্রনায়কের পৈতৃক ভিটা আজও অরক্ষিত। নিজ জন্মভূমিতে তিনি উপেক্ষিত।

মন্তব্য


  • পহেলা বৈশাখ ১৪২৫, কুষ্টিয়া পৌরসভা
  • পহেলা বৈশাখ ১৪২৫, মিরপুর কুষ্টিয়া
  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
    কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
  • কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬

জনপ্রিয় তথ্য

মিরপুরের ইতিহাস শনিবার, 07 মার্চ 2015
মিরপুরের ইতিহাস Mirpur History in kushtia কুষ্টিয়ার মিরপুরের নামকরণের ক্ষেত্রে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে...
বারে বারে আর আসা হবে না মঙ্গলবার, 19 ফেব্রুয়ারী 2019
বারে বারে আর আসা হবে না তুমি ভেবেছো কি মনে তুমি ভেবেছো কি মনে এই ত্রিভুবনে তুমি যাহা করে গেলে, কেহ জানেনা ?
ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় মঙ্গলবার, 19 ফেব্রুয়ারী 2019
ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু বাঁকা শ্যামরায় ও দয়াল তোমার লীলা বোঝা দায় দীনের বন্ধু করুণা সিন্ধু, বাঁকা শ্যামরায়।।
এখনো সেই বৃন্দাবনে মঙ্গলবার, 19 ফেব্রুয়ারী 2019
এখনো সেই বৃন্দাবনে এখনো সেই বৃন্দাবনে বাঁশি বাজে রে এখনো সেই বৃন্দাবনে বাঁশি বাজে রে। ঐ বাঁশি শুনে বনে বনে ময়ূর নাচে রে।।
ভবা পাগলা মঙ্গলবার, 19 ফেব্রুয়ারী 2019
ভবা পাগলা ভবা পাগলা (১৮৯৭-১৯৮৪) আসল নাম ‘ভবেন্দ্র মোহন সাহা’। তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে। তাঁর পিতার নাম ‘গজেন্দ্র কুমার সাহা’। ভবা পাগলারা ছিলেন...
মুহাম্মদের একটি ডালে পাঁচটি ফুল তাঁর ফুটেছে মুহাম্মদের একটি ডালে পাঁচটি ফুল তাঁর ফুটেছে মুহাম্মদের একটি ডালে, পাঁচটি ফুল তাঁর ফুটেছে।।
কুলমান সঁপিলাম তোমারে বন্ধুয়ারে কুলমান সঁপিলাম তোমারে বন্ধুয়ারে কুলমান সঁপিলাম তোমারে বন্ধুয়ারে।। কুল দাও কি ডুবায়ে মারো।। জ্বালায় তোমার অন্তরে...
কোন মিস্ত্রি নাউ বানাইলো মঙ্গলবার, 02 আগস্ট 2016
কোন মিস্ত্রি নাউ বানাইলো কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায় কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায় ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী...
কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু মঙ্গলবার, 02 আগস্ট 2016
কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছেড়ে যাইবা যদি
যে গুণে বন্ধুরে পাবো, সে গুণ আমার নাই! যে গুণে বন্ধুরে পাবো, সে গুণ আমার নাই যে গুণে বন্ধুরে পাবো সে গুণ আমার নাই গো সে গুণ আমার নাই

® সর্ব-সংরক্ষিত কুষ্টিয়াশহর.কম™ 2014-2019

1082446
আজকের ভিজিটরঃ আজকের ভিজিটরঃ 723

Made in kushtia

Go to top