প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233
খালি কার্ট

কুষ্টিয়ার গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ

ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগে কুষ্টিয়ার সন্তান মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন তাঁর অমরগ্রন্থ 'বিষাদ সিন্ধু'। কিন্তু প্রায় শতবর্ষ পর তারই জন্মভূমিতে যে আর একটি বিষাদ সিন্ধু রচিত হতে যাচ্ছে তা কি তিনি ভাবতে পেরেছিলেন? ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে হিংস্র পাক শ্বাপদরা আঘাত হানে লালনের দেশ কুষ্টিয়ায়। শুরু করে ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু কুষ্টিয়ার বাঘা যতীনের অনুসারীরা তাদের রুখে দিয়ে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই বিজয় আখ্যান বর্ণনা করেছেন ইত্তেফাকের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু।

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস। এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীসহ মুক্তিকামী লাখো জনতার প্রতিরোধে পাক সেনাদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে কুষ্টিয়া থেকে তাদের বিতাড়িত করা হয়। কুষ্টিয়াবাসীর কাছে এই দিনটি গৌরবোজ্জ্বল ও বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই দিনটিতেই হানাদার মুক্ত কুষ্টিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক জনতার উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে ডিসি ও এসপিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জোনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী। ডিসি, এসপিকে দায়িত্ব অর্পণের পর তিনি কালেক্টরেট চত্বরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। কুষ্টিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে আব্দুর রউফ চৌধুরীর পাশাপাশি যারা বিশেষ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া, মির্জা জিয়াউল বারী নোমান, অ্যাডভোকেট শামসুল আলম দুদু, আব্দুল হামিদ রায়হান, অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম, আব্দুল মোমিন, মোহন মিয়া, অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, নাসিম উদ্দিন, শামসুল হাদী, খন্দকার সাজেদুর রহমান বাবলু, মিনহাজুর রহমান আলো প্রমুখের নাম করা যেতে পারে।

কেমন আছেন মুক্তিযোদ্ধারাঃ- দেশ মাতৃকার লড়াইয়ে যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন তাদের অধিকাংশই জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় কোন কিছু পাওয়ার অভিলাষ মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল না। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল কিভাবে দেশকে স্বাধীন করা যায়। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হলেও এজন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করেন যে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন দেশের মাটিতে তারা কি ভাল আছেন? না, তাদের অধিকাংশই আজ ভাল নেই। দেশ জয়ের যুদ্ধে জয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজ তারা পরাজিত। তাদের জীবন কাটছে অতিশয় কষ্ট ও দৈন্যতায়। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজ বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন, কেউ কমিউনিটি ট্রাফিকের কাজ করেন আবার কেউবা কোন কাজ জোগাড় করতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা ভোগ-বিলাস কিংবা কোন কিছু চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা কখনও করিনি। তবে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিত্সা ও বাসস্থানসহ স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার গ্যারান্টি-অধিকার চান মুক্তিযোদ্ধারা। অসচ্ছল ও দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা খেদের আলী (৫৮)। বয়সের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও নিজের জীবন ও পরিবার রক্ষার তাগিদে জিয়া সড়ক বাসস্ট্যান্ডে কমিউনিটি ট্রাফিকের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এখানকার যত্সামান্য রোজগারই কোনমতে চলে তার সংসার। একই এলাকায় রেলওয়ের জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী (৬০)। কোন রোজগারই নেই তার। তার স্ত্রী ক্যান্সারের রোগী। দিন কাটান তারা খেয়ে-না খেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী বেঁচে থাকার তাগিদে লোকলজ্জার ভয়ে এলাকা ছেড়ে কখনও কখনও ভিক্ষাবৃত্তিও করেন। আরেক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা মানিকহার (৬০)। তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। চলাফেরা তেমন করতে পারেন না। তার সংসারের অবস্থাও করুণ। অর্ধাহারে-অনাহারে থাকেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার। গত ৩০ নভেম্বর 'জেগে আছো' নামক ঢাকার একটি সংস্থা কুষ্টিয়ার মিরপুরের ওই তিন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা অর্থ সাহায্য করে।

কুমারখালীর তিন বীরাঙ্গনাঃ- কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এখনও বেঁচে আছেন তিন বীরাঙ্গনা। কুমারখালী উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী দয়রামপুর ও হাশিমপুর গ্রামের বীরাঙ্গনা দুলজান, এলেজান ও মাসুদা'র খোঁজ কেউ রাখে না। যুদ্ধাকালীন সময় রাজাকারদের সহায়তায় এই তিনজনকে আটকে রেখে পাকসেনারা তাদের ওপর চালিয়েছিল পাশবিক নির্যাতন। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ওই তিন বীরাঙ্গনা ঢাকায় গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে স্বাধীনতা ও সামাজবিরোধীরা তাদের সমাজচ্যূত করেছিল। অসুস্থ এলেজান জানান, বড় মেয়ের বিয়ের পর অসতী আখ্যা দিয়ে তাকে তালাক দেয় তার স্বামী। তারপর থেকে মেয়ে মার সাথেই আছে। এই হতদরিদ্র বীরাঙ্গনার দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তার মাঝে। বীরাঙ্গনা মাসুদা বর্তমানে খুবই অসুস্থ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বামী মোফেল উদ্দিন স্ত্রী মাসুদার চিকিত্সা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বীরাঙ্গনা দুলজান বয়সের ভারে নূব্জ্য। যুদ্ধের সময় বন্দীশালায় পাকসেনাদের নির্যাতন ও রাইফেলের বাটের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। সেই থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থই রয়ে গেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে এই তিন বীরাঙ্গনার নেপথ্য অবদান অনেক। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তারা অবহেলিতই থেকে গেছেন, তাদের খোঁজ-খবর রাখে না কেউ।

গণহত্যাঃ- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেজর শোয়েবের নেতৃত্বে ২৭ বেলুচ রেজিমেন্টের ২১৬ জন সাঁজোয়া হানাদার বাহিনী কুষ্টিয়ায় এসে অবস্থান নেয় এবং পুলিশ লাইন, জিলা স্কুল, টেলিগ্রাম অফিস, থানা ও ওয়্যারলেস অফিস দখল করে নেয়। পরদিন পাকসেনারা শহরে কার্ফু জারি করে মহড়া দিতে থাকে। ২৭ মার্চ সর্বপ্রথম রহমান নামে একজনকে গুলি করে হত্যার পর থেকে পাইকারি হত্যাযজ্ঞ শুরু করে পাকসেনারা। শহরের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। শহর সংলগ্ন গড়াই নদীর তীরে জমে ওঠে লাশের স্তূপ। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার চুয়াডাঙ্গায় চতুর্থ উইংয়ের সদর দফতর ছিল এবং উইং কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর দিক-নির্দেশনা ও ইপিআরদের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষ পাকসেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের প্রতিরোধ করতে না পারলেও পরবর্তীতে মিত্রবাহিনী, ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলায় পাকসেনাদের সাথে মুক্তিবাহিনীর চারঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধ হয় এবং ওই যুদ্ধে ১৫৭ জন পাকসেনা নিহত হয়। শহীদ হন ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এরা হলেন: তাজুল ইসলাম, দিদার আলী, ইয়াকুব আলী, শহীদ দীল, আব্দুর রাজ্জাক, সরোয়ার হোসেন সুরুজ, মেজবাহ রহমান ও মিরাজউদ্দিন। সে সময় এই যুদ্ধের ঘটনাটি বিবিসি ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে পাকসেনারা রাজাকারদের সহায়তায় বংশীতলা, করিমপুর ও বৃত্তিপাড়া এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা চালায়। হত্যার পর মানুষের লাশ সদর উপজেলার বিত্তিপাড়ায় মাটি চাপা দেয়া হতো। পরবর্তীতে বিত্তিপাড়ায় এই বধ্যভূমি আবিষ্কার করা হয় এবং চলতি ২০১২ সালের শুরুতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ওই বধ্যভূমির পাশে দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

কুষ্টিয়ায় পাক বাহিনীর সাথে সন্মুখযুদ্ধে যারা শহীদ হন তারা হলেন:কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ল্যান্স নায়েক ইজল উদ্দিন আহম্মেদ, সিপাহী আবু তালেব বীর উত্তম, সিপাহী নওশেদ আলী, সিপাহী লিয়াকত আলী, নায়েক মো. ইদ্রিস আলী মণ্ডল, সিপাহী শেখ আলফা উদ্দিন, সিপাহী নোয়াব আলী, সিপাহী আবু জাফর, সিপাহী আব্দুল মালেক হাওলাদার, ইউনুস আলী মৃধা, তাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম দীল, গোলাম মোস্তফা, কিসমত আলী, তোজাম্মেল হক, চান্দ আলী মোল্লা, চিত্র বাহাদুর থাপা, নবদ্বীপ চন্দ্র শর্মা, শহিদুল হক, আফসার আলী, আব্দুল মালেক, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল মান্নান ও শেখ জামাল উদ্দিন। কুমারখালী উপজেলায় শহীদ হন ল্যান্স নায়েক আব্দুর রশিদ, সিপাহী আব্দুল লতিফ, সিপাহী মনিরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, আবুল কাশেম, আব্দুল আজিজ, সাবান আলী, শামসুজ্জোহা, তোসাদ্দেক হোসেন, লুত্ফর রহমান, শাহজাহান প্রমানিক, আনসার আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নান, ফকির সরদার, আব্দুল মান্নান ও নৃপেন কুমার মিত্র। দৌলতপুর উপজেলায় শহীদ হন সোরহার হোসেন, নায়েক সুবেদার আজিজুল হক চৌধুরী, নায়েক শেখ আফিল উদ্দিন, সিপাহী লিয়াকত হোসেন, সিপাহী শামসুদ্দিন, সিপাহী আনোয়ারুল ইসলাম, সিপাহী আমজাদ হোসেন, সিপাহী কুব্বাত আলী, এলডি আব্দুস সালাম, সিপাহী হাবিবুর রহমান, ল্যান্স নায়েক মকবুল হোসেন, সিপাহী ইলিয়াস হোসেন, সিপাহী আব্দুল মান্নান, রিক্রুট মজিবর রহমান, সিপাহী জামাল মিয়া, সিপাহী ওয়াহিদুল ইসলাম, মহিউদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, রোকনুজ্জামান, আব্দুল ওয়ারেস আলী, আব্দুল আজিজ, আবুল কালাম হোসাইন ও মো. আনসার আলী। মিরপুর উপজেলায় শহীদ হন সুবেদার নাজির আহম্মদ, সিপাহী রওশন আলী, সিপাহী ওমর আলী, আশরাফ আলী খান, গোপাল শেখ, মধু মণ্ডল, সাদেক আলী, আমিরুল ইসলাম, সোনাউল্লাহ মণ্ডল, রিয়াজতুল্লাহ, জসিম উদ্দিন, খন্দকার আব্দুর রশিদ, আব্দুর রহিম উদ্দিন, আবুল শেখ ও ইমদাদুল হক। এছাড়া খোকসা উপজেলায় আব্দুস সালাম ও আবু হাসানাত আরজু এবং ভেড়ামারা উপজেলায় নজরুল ইসলাম, গিয়াসউদ্দিন, হাবিলদার (অব.) হানিফ আলী, সিপাহী ফজলুল হক ও মো. সেকেন্দার আলী সরদার সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন।

নেতৃস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়াঃ- বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ইত্তেফাককে বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত ও বিজয় লাভ সম্ভব হলেও পরবর্তীতে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, সকল ক্ষেত্রেই চরম দলীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার মোহ-প্রতিহিংসায় রাজনৈতিক অঙ্গন দারুণভাবে কলুষিত হয়েছে। স্বাধীনতার চার দশক অতিবাহিত হলেও জাতীয় উন্নয়ন ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সত্যিকারের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো অর্জন করা যায়নি। রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট-পাটের কারণে এবং সুশাসনের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন শোষণমুক্ত দেশ-সমাজ প্রতিষ্ঠা বা মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা—কোনটাই করা সম্ভব হয়নি। দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন ও উন্নয়নকে বাদ রেখে মুষ্টিমেয় লোকের ভাগ্যের উন্নতিকে প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলে দাবি করা যায় না। উল্লেখ্য, বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালনায় কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় অবস্থিত আব্দুর রউফ চৌধুরীর বাড়িটি স্বাধীনতা যুদ্ধের হেড কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহূত হতো। অপরদিকে '৭১-এর ৩ মার্চ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাসিম আহম্মেদ ও প্রাক্তন কমান্ডার খন্দকার সাজেদুর রহমান বাবলু জানান, স্বাধীন দেশের উপযোগী শাসন, সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় এখনো স্বাধীনতার চেতনার বাস্তবায়ন হয়নি। দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আজও আসেনি। ফলে আপামর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নসহ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান ও পুনর্বাসন এখনো সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য


নিরাপত্তা কোড
রিফ্রেশ

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
    কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
  • কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬

জনপ্রিয় তথ্য

একটি সংগ্রামী জীবনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস - আব্দুর রউফ চৌধুরী The glorious history of the life of a struggling - Abdur Rouf Chowdhury জনাব আব্দুর রউফ চৌধুরী...
শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হাদী বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবার 2015
শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হাদী শামসুল হাদী (জন্মঃ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২, মৃত্যুঃ ১১ মে ১৯৭৫)। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।...
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া শুক্রবার, 17 নভেম্বর 2017
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য । ০৩ মার্চ কুষ্টিয়াতে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা...
কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুক্রবার, 17 নভেম্বর 2017
কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ১৯৭১ সমসাময়িক উত্তাল বাংলাদেশের ঢেউ বেশ ভালোভাবেই আছড়ে পড়ে কুষ্টিয়াতে। ১৯৭১ এ এদেশের স্বাধীনতা...
১৯৭১ সালে পাকি বাহিনীর ফেলা যাওয়া গোলাবারুদ পরাধীন ব্রিটিশ শৃংখলে জর্জরিত ভারতীয় জাতিস্বত্বার অন্য দশটা গ্রামের মতই বাংলার স্মৃতিবিজড়িত হাটশ...
১১ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস বৃহস্পতিবার, 11 ডিসেম্বর 2014
১১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস ১১ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার মুক্তি সেনারা রক্তক্ষয়ই সংগ্রাম করে ছোট-বড় ২২ যুদ্ধ শেষে পাকবাহিনীর...
নদীটির নাম হিসনা রবিবার, 10 ডিসেম্বর 2017
নদীটির নাম হিসনা নদীটির নাম হিসনা। এক সময় ওর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল পদ্মার সাথে। আসলে পদ্মা ওর মা। নদী যখন তার...
মিরপুর মুক্ত দিবস ৮ই ডিসেম্বর বুধবার, 06 ডিসেম্বর 2017
মিরপুর মুক্ত দিবস ৮ই ডিসেম্বর ৮ই ডিসেম্বর মিরপুর থানা পাক হানাদার মুক্ত দিবস। বাঙ্গালী ও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের...
হাট বাজার বৃহস্পতিবার, 07 ডিসেম্বর 2017
এসব দেখি কানার হাট বাজার এসব দেখি কানার হাট বাজার বেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা আর এক কানা মন আমার।।
ভেড়ামারা মুক্ত দিবস ১২ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ সাঁড়াশি আক্রমনের মুখে পাকিস্তানী হানাদার...

    ® সর্ব-সংরক্ষিত কুষ্টিয়াশহর.কম™ ২০১৪ - ২০১৭

    806796
    আজকের ভিজিটরঃ আজকের ভিজিটরঃ 792

    Made in kushtia

    Real time web analytics, Heat map tracking
    Go to top