প্রয়োজনে ফোন করুন:
+88 01978 334233
খালি কার্ট
Lalon Song Cloud

বংশীতলার যুদ্ধ

দূর্বাচারা গ্রামে জিয়াউল বারী নোমানের নেতৃত্বে বি এল এফ এর একটি দল ছিল। তাদের পৃথক ক্যাম্প ছিল। এমন একটি ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন শামসুল হাদী। ৫ই সেপ্টেম্বর তার অনুপস্থিতিতে ক্যাম্প ইনর্চাজ ছিলেন শাহাবুব আলী ও বাহার তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০০মুক্তিযোদ্ধা ছিল। রাজাকার বাহিনী কুষ্টিয়ার পিস কমিটিকে জানিয়ে দেয়। পিস কমিটি আর্মি ক্যাম্পে জানালে পাকিস্তানী বাহিনী ভাদালিয়া হয়ে দূর্বাচারার দিকে অগ্রসর হয় । পাকসেনা আসছে এ খবর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌছে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা দূর্বাচারার ২ মাইল পশ্চিমে বংশীতলায় মধ্যরাত থেকে এ্যাম্বুশ করে।

পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত পাকিস্তানীদের খোঁজ না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নাস্তা করার জন্য অবস্থান ছেড়ে উঠে যায় । এল এম জি ম্যান আব্দুল কুদ্দুস ও সেকেম আলী বংশীতলার ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের পূর্ব দিকে অবস্থান নিলে পাকিস্তানী সেনাদের পায়ে হেটে এগিয়ে আসতে দেখে। পাকিস্তানী সৈন্যরা খুব কাছাকাছি চলে আসলে আব্দুল কুদ্দুস এলএমজির ব্রাশ ফায়ার করে দেয়। হঠাৎ আক্রমনে পাকিস্তানীরা হতভম্ভ হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন করতে পারে না। ঘটনাস্থলে বহু পাকিস্তানী নিহত হয়। বিরতিহীন গুলিবর্ষণে আব্দুল কুদ্দুসের এলএমজি জ্যাম হয়ে যায়। এই সুযোগে পাকিস্তানী সৈন্যরা গুলি করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস পায়ে গুলি বিদ্ধ হন। তারপরও তিনি এলএমজি টি পানিতে ফেলে দিয়ে সঙ্গী সেকেম আলী সহ ডুব সাঁতার দিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যদের নাগালের বাইরে চলে যান। এই সময়ে মধ্যে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। বংশীতলা হতে ৩ মাইল দুরে কুষ্টিয়া টেক্সটাইল মিলে অবস্থানরত পাকিস্তানী সৈন্যরা সেল নিক্ষেপ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধ চলার পরে উভয় পক্ষ পিছু হটতে থাকে। এই যুদ্ধে ৪৫/৫০ জন পাকিস্তানী সৈন্য ও কয়েক জন অফিসার নিহত হয়।

বংশীতলার যুদ্ধে শহীদ হনঃ

  • তাজুল ইসলাম -পিতা আব্দুল করিম শেখ
  • খোরশেদ আলম দিল -পিতা শাদ আহমদ
  • শেখ দিদার আলী- পিতা নূরুল ইসলাম
  • ইয়াকুব আলী শেখ- পিতা কুদরত আলী
  • গোলাম মোসত্মফা রাজ্জাক -পিতা মোহাম্মদ আলী শেখ
  • আবু দাউদ- পিতা ইয়াদ আলী গ্রাম
  • চাঁদ আলী মোল্লা গ্রাম
  • আব্দুল মান্নান -পিতা মোজাহার উদ্দিন
  • মোবারক মোল্লা

আ ক ম আজাদ(পিতা-মোঃ শামছুদ্দিন, পিয়ারপুর, কুষ্টিয়া), শফিউল ইসলাম জিল্লু (পিতা আমিরুল ইসলাম,কেনীরোড়,কুষ্টিয়া), মতিয়ার রহমান ( গ্রাম মনোহরদিয়া), ফিরোজ আহম্মেদ (আমলাপাড়া কুষ্টিয়া), হাবিবুর রহমান (শেরকান্দি, কুমারখালী), আব্দুল কুদ্দুস (মঙ্গল বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া ), আব্দুল খালেক (হাটস হরিপুর, কুষ্টিয়া ) সহ আরো অনেকে আহত হন ।

পরদিন পাকিস্তানীরা বংশীতলা দূর্বাচারা ও আশেপাশের এলাকায় বিমান হামলা করে।

এছাড়াও শেরপুর যুদ্ধ ছিলো স্মরণীয় ঘটনা।

যুদ্ধকালীন সময়ে এ্যাডভোকেট সাদ আহম্মেদের নেতৃত্বে পিস কমিটি গঠন ও রাজাকার সৃষ্টি করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

৯ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহর বাদে সমগ্র কুষ্টিয়া (১ ডিসেম্বর মেহেরপুর ও ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা ) মুক্ত হয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহর মুক্ত করার জন্য মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী কুষ্টিয়া শহরের চারিদিক থেকে আক্রমন শুরু করে। যশোর ক্যান্টনমেন্ট এবং ঝিনাইদহ সাব ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানী সৈন্য কুষ্টিয়া শহর দিয়ে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরের সৈন্য পোড়াদহ দিয়ে এবং দৌলতপুরের সৈন্য ভেড়ামারা দিয়ে পাকশী ঘাটে সমাবেত হয়। ব্রিজের উপর দিয়ে, নৌকায়, ফেরিতে করে ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে যাত্রা শুরু করে এমন সময় মিত্রবাহিনীর বিমান হতে বোম্বিং শুরু হয়। মিত্রবাহিনীর বোমার আঘাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কিছু অংশ ভেঙ্গে যায় বহু পাকিস্তানী সৈন্য ও তাদের তাবেদার রাজাকার বাহিনী নিহত হয় ।

রণক্ষেত্রে যখন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা হাতে অস্ত্র নিয়ে বীরত্বের সঙ্গে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল বদর জামায়াত ও মুসলিম লীগের দালালদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে যুদ্ধরত তখন কিছু বাঙালী হাতে কলম তুলে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্য ও পাক হানাদারদের কার্যক্রম তুলে ধরতে তারা বহু পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। এই ধরনের একটি পত্রিকা স্বাধীন বাংলা। স্বাধীন বাংলা বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শামছুল আলম দুদুর প্রকাশনায়, সাপ্তাহিক মশাল সম্পাদক ওয়ালিউল বারী চৌধুরীর সম্পাদনায় ও সাপ্তাহিক দর্শক সম্পাদক লিয়াকত আলীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদনায় মুজিবনগর থেকে ১লা মে স্বাধীন বাংলা নামের সাপ্তাহিক পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

কুষ্টিয়ার শরণার্থীদের সাহায্যার্থে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক সমিতি নামে একটি সংগঠন মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কাজ করে, যার আহবায়ক ছিলেন লিয়াকত আলী ।

যুদ্ধের মধ্যেও রাজনীতির প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য নদীয়ার রানাঘাটে জনাব আহসানউল্লাহ এমপিএকে অধ্যক্ষ এবং তৎকালীন জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ প্রধান আনোয়ার আলী ও ছাত্রনেতা খন্দকার রশিদুজ্জামান দুদুকে শিক্ষক নিয়োগ করে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তিনমাস মত পরিচালিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসাবে কাজ করেছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলিরা অধিকাংশ ছিলেন কুষ্টিয়ার। সুরসেনা আব্দুল জব্বারের কন্ঠে দেশাত্ববোধক গান মুক্তিযোদ্ধারে প্রেরণা যুগিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতারের জল্লাদের দরবার অনুষ্ঠানটির কথা মনে হলে সকলের মানসপটে ভেসে উঠে রাজু আহম্মেদ ও বাবুয়া বোসের নাম । জল্লাদের দরবার অনুষ্ঠানটির রচয়িতা কুষ্টিয়ার কল্যাণ মিত্র। আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম আমিনুল হক বাদশা।

এদেশের মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার যাঁদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাঁরা হলেন লাখো লাখো স্থানীয় জনগনসহ আজিজুর রহমান আক্কাস (তৎকালীন এমএনএ), ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম (তৎকালীন এমএনএ ও প্রধানমন্ত্রীর পিএস), আব্দুর রউফ চৌধুরী (তৎকালীন এমপিএ), ব্যারিস্টার বাদল রশিদ (মুক্তিযুদ্ধে লিয়াজো অফিসার), সহিউদ্দিন আহম্মদ, আহসান উল্লাহ (তৎকালীন এমপিএ), গোলাম কিবরিয়া (তৎকালীন এমপিএ), নুরুল হক (তৎকালীন এমপিএ), এ্যাডভোকেট ইউনুস আলী (তৎকালীন এমপিএ), শামসুল হক (তৎকালীন ডিসি,কুষ্টিয়া), তৌফিক এলাহী চৌধুরী (তৎকালীন এসডিও,মেহেরপুর), ডা. আসাবুল হক(তৎকালীন এমপিএ এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকার পরিচালিত বাংলাদেশ রেডক্রসের চেয়ারম্যান) প্রমুখ।

মন্তব্য


নিরাপত্তা কোড
রিফ্রেশ

কুষ্টিয়া ল্যাপটপ বাজার

  • পহেলা বৈশাখ ১৪২৫, কুষ্টিয়া পৌরসভা
  • পহেলা বৈশাখ ১৪২৫, মিরপুর কুষ্টিয়া
  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

    লাঠিখেলা উৎসব ২০১৭

  • কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

    কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    ডি সি অফিস নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    একতারা মোড় নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
    কুষ্টিয়া পৌরসভা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩
  • কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া পৌরসভা বটতলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    লালন একাডেমী নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া এন এস রোড নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

    কুষ্টিয়া শাপলা চত্বরে নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৩

  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
  • ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬
    ফকির লালন শাঁইজীর স্মরণে দোলপূর্ণিমা উৎসব ২০১৬


জনপ্রিয় তথ্য

মাহে রমজান বৃহস্পতিবার, 17 মে 2018
মাহে রমজান খোশ আমদেদ মাহে রমজান কৃচ্ছ্রপূর্ণ ও আত্মসংযমের মাস। হিজরি সালের নবম মাস পবিত্র মাহে রমজান উম্মতে...
জগদীশ গুপ্ত মঙ্গলবার, 15 মে 2018
জগদীশ গুপ্ত জগদীশ গুপ্ত (জন্ম : ১৮৮৬ সালে মৃত্যু : ১৯৫৭ সালে) কুষ্টিয়া শহরে। তাঁর আদি নিবাস ফরিদপুরের...
মাহে রমজানের গুরুত্ব মঙ্গলবার, 15 মে 2018
মাহে রমজানের গুরুত্ব খোশ আমদেদ মাহে রমজান। পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওযার মাস। এ মাসে মানুষ নিজের...
মাহে রমজান আমাদের জীবনে সার্থক ও মহিমান্বিত হোক অশেষ রহমত ও বরকত নিয়ে মাহে রমজানের আগমন হয়েছিল। আল্লাহর আদেশে, তাঁর সাধারণ নিয়মে তা আমাদের মধ্য থেকে বিদায়ও...
বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র: ১৯৭০ সনের ০৩ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা...
স্যাটেলাইট কি? শুক্রবার, 11 মে 2018
স্যাটেলাইট কি? স্যাটেলাইট হলো মহাকাশে উৎক্ষেপিত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত উপগ্রহ। স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম...
মারফত আলী গণ মানুষের নেতা শনিবার, 14 নভেম্বর 2015
মারফত আলী গন মানুষের নেতা আততায়ীর গুলিতে মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ যখন আমলা হাই স্কুল মাঠে আনা হয় তখন লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষের...
রবীন্দ্রনাথ প্রতিটি বাঙ্গালীর মজ্জায় মিশে আছে - আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের...
রবীন্দ্রনাথ এবং বাংলা সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের অমর প্রাণপুরুষ, বাংলা কবিতার মহান বরপুত্র, বাংলা, বাঙালির অতি আপনজন, বাংলা...
পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন সোমবার, 23 এপ্রিল 2018
পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন ১৮৬৭ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার দর্শনা হতে জগতি পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করেন এবং এরপর পর্যায়...

® সর্ব-সংরক্ষিত কুষ্টিয়াশহর.কম™ ২০১৪ - ২০১৮

914879
আজকের ভিজিটরঃ আজকের ভিজিটরঃ 643

Made in kushtia

Real time web analytics, Heat map tracking
Go to top